সময়ের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে পলাশবাড়ীর অন্যতম পুরাতন ভাঙ্গারির ব্যবসা। এক সময়ে এই ব্যবসা করে পলাশবাড়ীতে শত শত পরিবার তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো। ব্যবসাটি ছিলো লাভজনক। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং অবহেলার কারণে লাভজনক এই ব্যবসাটি হারিয়ে যেতে বসেছে।

পথশিশু বা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কর্মচারীরা বিভিন্ন ধরনের পুরোনো অব্যবহৃত দ্রব্যসামগ্রী সংগ্রহ করে যেমন, প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, রাবার, কাগজ, লোহার তৈরি সামগ্রী, পুরোনো টিন, নষ্ট হওয়া লোহার তৈরি যন্ত্রাংশ, নষ্ট হওয়া বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি, গৃহনির্মাণ সামগ্রী, গ্লাস, কাগজের বাক্সসহ- আরও নানা ধরণের জিনিসপত্র সংগ্রহ করে। কিছু কিছু ভাঙ্গারির দোকানে বিভিন্ন রকমের দ্রব্যাদির বেচাকেনা হয়, আবার কোনো কোনো দোকানে শুধুমাত্র একটি দ্রব্যের বেচাকেনা হয়।

পলাশবাড়ী কালিবাজার রংপুর রোড, কমরপর, ঘুরে সংশ্লিষ্ট এ সমস্ত ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী নুরুল ভাঙরির সঙ্গে কথা বললে তিনি নানান ধরনের সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

ব্যবসায়ী সালেক মিয়া তার গ্রামের বাড়ি কেশোরগাড়ী ইউনিয়ানের বড় শিমুলতলা গ্রামের । ২ ছেলে এবং এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। তিনি ৩০ বছর যাবৎ ভাঙ্গারির ব্যবসা করছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এই ব্যবসাটি আর আগের মতো নেই। তৈরি হয়েছে অসম প্রতিযোগিতা। এতে করে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে পুরাতন এই পেশাটি।

তিনি জানান, একটা সময় এই ব্যবসাটি লাভজনক ছিল। কিন্তু এখন আর আগের মতো নেই। আমরা যে সমস্ত দ্রব্য সংগ্রহ করে থাকি এগুলোর দাম শুধুই কমছে। দাম বৃদ্ধির কোনো লক্ষণই নেই। এমন অবস্থায় আমি সহ যে সমস্ত লোক এই ব্যবসায় নিয়োজিত সবাই পরিবার পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

রুবেল/নাজিব