লেখক-অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম আর নেই। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি (ইন্নালিল্লাহে ওয়া....রাজীউন)।
শনিবার দিনগত রাত পৌনে ১টার দিকে শমরিতা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয় বলে প্রয়াতের জামাতা শাকিল আখতার জানিয়েছেন। তার ব্য়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
হৃদযন্ত্রের সমস্যাজনিত কারণে কয়েক দিন আগে হাসপাতালে আনা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক সরদার ফজলুল করিমকে, যাকে সরদার স্যার বলেই ডাকতেন তার পরিচিতজনরা।
পেশায় চিকিৎসক শাকিল জানান, বহুমুখী সমস্যায় ভুগছিলেন তার শ্বশুর। ‘বেশ কয়েকটি অঙ্গ’ কাজ করছিল না তার।
শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখি করেছেন জাতীয় অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম। তার উল্লেখযোগ্য অনুবাদ ও রচনার মধ্যে রয়েছে, ‘প্লেটোর সংলাপ’, ‘প্লেটোর রিপাবলিক’, ‘অ্যারিস্টটলের পলিটিক্স’, এ্যাঙ্গেলসের অ্যান্টি ডুরিং’, ‘নানা কথার পরের কথা’, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক’, ‘চল্লিশের দশকের ঢাকা’, ‘নূহের কিশতি’, ‘রুমীর আম্মা’, ‘দর্শনকোষ’, ‘শহীদ জোতির্ময় গুহঠাকুরতা স্মারকগ্রন্থ’, ‘সেই সে কাল’।
স্বাধীনতা ও বাংলা একাডেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত সরদার ফজলুল করিম ১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে স্নাতক এবং ১৯৪৬ সালে স্নাতকোত্তর সনদ নেন। এরপর ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়েই দর্শনশাস্ত্রের অধ্যাপক হিসাবে নিয়োজিত থাকেন।
ছাত্রজীবন থেকেই ‘শোষণমুক্ত ও মানবতাবাদী’ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনরত এই লেখক রাজবন্দি হিসাবে দীর্ঘ ১১ বছর কারাভোগ করেন। ১৯৫৪ সালে জেলে থাকাকালেই তিনি পাকিস্তান সংবিধান সভার সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৬৩ থেকে ৭১ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমীর সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যক্ষের পদে কাজ করেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ১৯৭২ থেকে ৮৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাকা, ১৫ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





