কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কয়েক হাজার দুস্থ প্রতিবন্ধীকে যাচাই-বাছাই করার নামে রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখে চরমভাবে হয়রানি করা হয়েছে।
এসময় অসুস্থ হয়ে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আরো শতাধিক প্রতিবন্ধী।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবন্ধীদের এ ধরনের হয়রানি করায় সমাজসেবা কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করেছেন প্রতিবন্ধী ও তাদের স্বজনরা।
জানা গেছে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ ও যাচাই-বাছাইসহ তালিকা করার নিয়ম থাকলেও সমাজসেবা কর্মকর্তা মাইকিং করে উপজেলা পরিষদ মাঠে প্রতিবন্ধীদের সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান।
এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার প্রতিবন্ধী উপজেলা পরিষদ মাঠে জড়ো হন। একপর্যায়ে তা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। দিনভর খোলা মাঠে প্রখর রোদে অসহায় প্রতিবন্ধীরা দাঁড়িয়ে থাকেন।
এসময় শুকুর আলী (৬৫) নামে এক প্রতিবন্ধী মারা যান। তিনি উপজেলার গোয়ালগ্রাম এলাকার মৃত আতর আলীর ছেলে। উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সালেহা খাতুন নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় তাকে দ্রুত বাড়ি নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। এছাড়া প্রায় শতাধিক প্রতিবন্ধী অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থরা দৌলতপুর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নেন। কর্মকর্তারা অব্যস্থাপনার মধ্যে তালিকা করতে ব্যর্থ হলে এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক প্রতিবন্ধী বাড়ি ফিরে যান।
উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী নাসির বেলা ২টা পর্যন্ত তার নাম তালিকাভুক্ত করতে না পেরে বাড়ি ফিরে যান।
তিনি বলেন, এভাবে অসহায় মানুষদের ডেকে নিয়ে তামাশা করা ঠিক হয়নি। আমাদের মতো মানুষদের ডেকে নিয়ে বড় কর্তারা আনন্দ পেলেও সেটা আমাদের জন্য চরম কষ্টের।
একই অভিব্যক্তি জানালেন দুর্গম পদ্মাচর চিলমারী ইউনিয়ন থেকে আসা শারীরিক প্রতিবন্ধী এইচএসসি পরীক্ষার্থী রোকনুজ্জামান।
তিনি বলেন, এতদূর থেকে এসে কোনো কাজই হলো না। পরীক্ষার মধ্যে এভাবে ডেকে এনে রীতিমতো নাজেহাল করা হলো বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় রিফায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ইছাহক আলী, মরিচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহাবুল হোসেন, মথুরাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম ও প্রাগপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম গেদু ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে হাজার হাজার অসহায় প্রতিবন্ধীকে একইদিনে এক সাথে জড়ো করে অযথা তাদের কষ্ট দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কেকেএম ফজলে রাব্বি প্রতিন্ধীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন, অনেক লোকের জমায়েত হলে সেখানে কিছু বিশৃঙ্খলা হতেই পারে।
এটি মেনে নিতে হবে। পাইরেসি ঠেকাতে প্রতিবন্ধীদের একযোগে ডাকা হয়েছে। তিনি জানান, পুরনো তালিকার সাথে শতকরা ২৭ ভাগ প্রতিবন্ধীকে নতুন করে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।
এসএইচ





