এবারই প্রথম ঢাকা দক্ষিণ সিটি (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৮টি অস্থায়ী কোরবানীর পশুর হাটে পশু ডাক্তারের নেতৃত্বে মেডিকেল টিম বসছে। ইতোমধ্যে পশু সম্পদ অধিদফতরের চাহিদা মোতাবেক ঢাকার ২ সিটির পক্ষ থেকেই এ মেডিকেল টিমের বসার আয়োজন করা হয়েছে।

ডিএসসিসির ১০ হাট: লালবাগ মরহুম হাজী দেলোয়ার হোসেন খেলার মাঠ বাবুবাজার ভেড়ীবাধ সংলগ্ন খালি জায়গা, নারিন্দা সাদেক হোসেন খোকা মাঠের হাট, মেরাদিয়া বাজার খিলগাঁওয়ের হাট, পোস্তগোলা শশ্মানঘাট হাট , উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজার সংলগ্ন মৈত্রীসংঘের হাট, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, ধুপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব হাট, গোলাপবাগ মাঠের পাশে সিটি করপোরেশনের আদর্শ স্কুল মাঠ , ব্রাদার্স ইউনিয়নের মাঠ, ঝিগাতলা হাজারীবাগ মাঠের হাট, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির  মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ সংলগ্ন হাট। 

ডিএনসিসির ৮ হাট:  বনানী কাকলী রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন হাট, বারিধারা জে ব্লকের বাইপাস সড়ক-সংলগ্ন হাট, উত্তরা ১১ ও ১৩ নম্বর সেক্টর সোনারগাঁও জনপদ-সংলগ্ন হাট,  মিরপুর সেকশন-৬ ইস্টার্ন হাউজিং-সংলগ্ন হাট, উত্তরা আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের হাট, আগারগাঁও বস্তির খালি জায়গার হাট, খিলক্ষেত বনরুপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গার হাট এবং গাবতলীর স্থায়ী পশশুর হাট রয়েছে।

জানা যায়, স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকার ও বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়  কৃত্রিমভাবে কোরবানীর পশু মোটাতাজা করার খবর মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষটিকে প্রতিরোধের জন্য অনেক আগ থেকেই কোরবানীর হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার প্রচরণা চালানো হয়।

তবে ঢাকার ২ সিটির ১৮টি কেরবানীর পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মাত্র ৪ জন পশু চিকিৎসক (ভেটেরিনারী সার্জন) রয়েছেন। এর বাইরে প্রতিটি হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য একজন পশু চিকিৎসক ভেটেরিনারী এবং স্যানেটেরী ইন্সপেক্টর ও ৩ জন করে সহকারি পশু চিকিৎসক নিয়ে  টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া থাকবে পশুর স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য নিয়োজিত থাকবে ৪টি ভ্রাম্যমান আদালত ।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক বলেন, নগরবাসীর সেবার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সম্মত পশু কোরবানীর স্বার্থে এবার প্রতিটি কোরবানী পশুর হাটে মেডিকেল টিম রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে রাজধানীর পশুর হাটেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাটগুলোতে পশু আসা শুরু হয়েছে। মানুষের সুবিধার জন্য নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এসব হাট বসানো হয়েছে। তবে যানজট এড়াতে এবার অনেক জায়গায় হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়নি বলে ও জানান তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটির (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মাসুদ আহসান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ স্যানেটারি ইন্সপেক্টরদেরকে  পশুর হাটে ডিউটি দেয়া হয়েছে। তারা পশুর স্বাস্থ্য পরিক্ষা করবেন এবং অসুস্থ পশু  বিক্রির বিষয়ে নজর রাখবেন।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ১০টি পশুর হাটে ১০ জন সদস্য’র দুইটি ভেটেনারী মোবাইল টিম পশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে থাকবেন। তিনি বলেন, এছাড়াও প্রতিটি হাট বেসরকারিভাবেও পশু চিকিৎসক থাকবে।

একে/জেডআই