দু’দেশের সীমান্তে সীমান্তরক্ষীর নমনিয়তার কারনে হিলি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে ভারত-বাংলাদেশে লোক যাতায়াত বৃদ্ধি পেয়েছে।

আর এই সুযোগে স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় পাচার হয়ে যাচ্ছে নারী-শিশু-কিশোর। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সীমান্তরক্ষীদের হাতে দু’একজন ধরা পড়লেও সিংহ ভাগই পাচার হয়ে যাচ্ছে ভারতে।

কিন্তু থেমে থাকছে না অবৈধ পথে মানব পারাপার।

হিলি সীমান্তের চিত্রটা এমনি যে, রেল লাইনটাই ভাগ করে রেখেছে এপার সীমান্ত আর ওপার সীমান্ত। দুই সীমান্তের হাট বাজারের নাম হিলি , যার মৌজা আর জেলার নাম একই।

ঘনবসতি এতটাই কাছাকাছি যে, এক লাফে রেল লাইনটা পার হলেই ভারত। আর দালাল মাধ্যমে মানুষের মাঝে মিশে অনায়াসে চলে যাওয়া যায় ওপার সীমান্তে।

দালাল চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলার অভাবি অঞ্চলে গিয়ে বিভিন্ন বয়সী ছেলে মেয়ে ও কিশোরদের ভারতে কাজ দেবার কথা বলে হিলি এনে সীমান্তের দালালদের পছন্দমত বাড়িতে রাখা হয়।

পরে সুযোগ বুঝে জনপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে কিছু অসাধু বিজিবিকে ম্যানেজ করে পার করে দেয়া হয় সীমান্তের ওপারে।

হিলি চেকপোষ্ট গেট, চুরিপট্রি রেলগেট, ষ্টেশন এলাকা, বালুরচর, ডাববাগান, এসব এলাকা দিয়ে লোক পারাপার হয়ে থাকে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের সামনে দিয়ে। আর অবৈধ পারাপারের অন্তরালে পাচার হয়ে যায় অনেক নারী-শিশু-কিশোর- কিশোরী।

ভিষা জটিলতা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনায় বাংলাদেশী পাশপোর্ট যাত্রীদের ভারত গমনে ভ্রমনকর বৃদ্ধি হওয়ায় অবৈধ পারাপার অনেকটাই বেড়েছে হিলি সীমান্ত দিয়ে, বললেন বিজিবি’র হাতে আটক হওয়া বাংলাদেশী অরুন কুমার ।

অবৈধ পথে পারাপারে আটক হওয়া দু’দেশের নাগনিকদের বিভিন্ন সময়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্য দিয়ে ফেরত নেয়াদেয়া হয়েছে বহুবার।

এদিকে বিজিবি অবৈধ গতবছর অনুপ্রবেশের দায়ে এক শ’র বেশী নারী-শিশু-পুরুষ উদ্ধার দেখিয়ে মামলা করেছে বলে জানালেন হাকিমপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান।

ভারত পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার ধোলোয়াবাড়ীর নরেশ চন্দ্র ভৌমিকের ছেলে সুমির চন্দ্র ভৌমিক বললেন, তারা গরীব অসহায় ।

পাশপোর্ট করার মত অর্থ তাদের নেই। তাই তিনি তার স্ত্রী অর্চনা ভৌমিক ও ছেলে শুভদেব (১২) কে নিয়ে বাংলাদেশের টাংগাইল জেলার হিংগা নগর গ্রামে বেড়াতে যেতে চেয়েছিলেন আত্মীয়র বাড়ীতে।

সীমান্ত পাড়ী দিতে ভারত হিলি সীমান্তের অরুন দালাল কে দিয়েছেন তিনি ৩ জনের ৫ হাজার ভারতীয় রুপি। সীমান্তের ২৮৫ মেইন পিলারের পাশ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে গিয়ে ধরা পড়ে যান ৯ জন বিজিবি’র হাতে।

অন্যান্যরা হলেন, সুকুমার চন্দ্র দে,সত্য রানী দে,দীপেন চন্দ্র দে,ভজন চন্দ্র দে, বাসন্তি দে,সুনিল চন্দ্র পাল। ঠিক এমনি ভাবে ধরা পড়েছেন অনেক ভারতীয় নাগরিক।

হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় বিজিবির হাতে উদ্ধার হওয়া গার্মেন্টস কর্মী স্মৃতি জানান, তাকে ভারতে পাচারের উদ্দে্েযশে নিয়ে আসা হয়েছিল। বেড়ানোর কথা বলে তার প্রেমিক তাকে হিলিতে নিয়ে আসে। শাঁখা-সিঁদুর পরিয়ে ভারতে পাচার করে দেওয়ার সময় বিজিবি উদ্ধার করে স্মৃতিকে।

১৪ বছর বয়সের রবিউল বলতে পারে না তার পূর্ণ ঠিকানা। সে ৪ বছর বয়সে হিলি সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে যায় ভারতে। ধরা পড়ে যায় পুলিশের হাতে।

৪ বছর জেল খাটার পর তারা ১৮ জন ভারত পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শোবায়ন হোম থেকে পালিয়ে এসে আবার ধরা পড়ে বিজিবি’র হাতে।

হাকিমপুর উপজেলা নিবার্হী অফিসার, মো: আজহারুল ইসলাম জানান, উপজেলা আইন শৃংখলা সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে লোক পারপার ও পাচারের বিষয়টি নিয়ে বার বার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সেই সাথে সোলায়মান, হজরত সহ চিহিৃত দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিজিবিকে জানানোও হয়েছে।

এসএইচ