আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে ত্রাণ সামগ্রীর দ্বিতীয় চালান নিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ঘড়িয়াল পৌঁছায়। ৬২ হাজার ফ্যামিলি প্যাকের ত্রাণ সামগ্রী ভারতীয় হাইকমিশনার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জনাব মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করেন।
'ভারতীয় জনগণের' শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসাবে প্রতিটি ১৫ কেজির ফ্যামিলি প্যাক যা বিশেষ করে প্রত্যেক পরিবারের পাঁচ-ছয়জন সদস্যের চাহিদা মেটায় এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এইসব ফ্যামিলি প্যাকের মধ্যে চাল, ডাল, লবণ, চিনি, রান্নার তেল, চা, গুঁড়া দুধ, বিস্কুট ছাড়াও মশারি এবং সাবান রয়েছে।
এর আগে ত্রাণ সামগ্রীর প্রথম চালানটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিমান সি-১৭ গ্লোবমাস্টার-৩ দুই দফায় গত ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ চট্টগ্রামে অবতরণ করে। বিমানটি ৯২০৬ টি ফামিলি প্যাকের মোট ১০৭ টন ত্রাণ সামগ্রী বহন করে।
ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, এমপির কাছে ত্রাণ সামগ্রী হস্তান্তর করেন। মিয়ানমারের বিতাড়িত মানুষের মধ্যে এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করার জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বরাবর পাঠানো হয়েছে।
আইএনএস ঘড়িয়াল একটি 'ল্যান্ডিং শিপ ট্যাংক' এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল যা জলে ও স্থলে উভয় জায়গায় অভিযান পরিচালনা করতে পারে। ১৯৯৭ সালে বিশাখাপত্তম এর হিন্দুস্থান শিপইয়ার্ড এ জাহাজটি স্থানীয়ভাবে নির্মিত হয়েছিল।
এটি ৬ হাজার ৬০০ টন পর্যন্ত লোড বহন করতে সক্ষম। জাহাজটি মানবিক ত্রাণ সহায়তা প্রদানসহ বেশ কয়েকটি অভিযানে অংশগ্রহণ করেছে। কেরালার কোচিনের দ্বিতীয় প্রজন্মের অফিসার কমান্ডার জেমস রেবিইরা জাহাজটি পরিচালনা করেন।
মিয়ানমার থেকে সম্প্রতি বিতাড়িত সকল পরিবারের জন্য ৭১ হাজার ২০০ ফ্যামিলি প্যাকের সমন্বয়ে মোট ত্রাণ সামগ্রী দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের এই সংকটময় প্রয়োজনের সময় ভারত সরকার বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
এমএ