আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, বাংলাদেশে সরকারের সমালোচনাকারী স্বাধীন গণমাধ্যমগুলো ‘ভীষণ চাপের’ মধ্যে রয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, গত বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অন্তত ৪৩জনকে গুম করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৫ সালে ১৯৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত।

মঙ্গলবার অ্যামনেস্টির মানবাধিকার-বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশে মত প্রকাশে স্বাধীনতার পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের সমালোচনা করা স্বাধীন গণমাধ্যমগুলো ভীষণ চাপের মুখে রয়েছে।

গত অক্টোবর মাসে সরকার কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তারা যেন দেশের শীর্ষ দুটি দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এ বিজ্ঞাপন না দেয় এবং বিজ্ঞাপন দিলে তারা শাস্তির মুখোমুখি হবে।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে গণমাধ্যমের ওপর চাপ ছাড়াও মত প্রকাশে আরও কিছু অন্তরায়ের উদাহরণ তুলে ধরা হয়। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়,

সংসদের সমালোচনা করায় গত নভেম্বরে একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করে।


এ ছাড়া গত বছর ব্লগার ও প্রকাশক হত্যা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ রাখার ঘটনা মত প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


এতে আরো বলা হয়, ব্লগাররা তাদের ধর্মনিরপেক্ষ মত প্রকাশ করায় ইসলামি জঙ্গিদের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

সরকারি কর্তৃপক্ষ লেখালেখির মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার জন্য ব্লগার ও প্রকাশকদের অভিযুক্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের লোকদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দালিলিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সেটা কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি। গত বছর পর্যন্ত এমন ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

গত বছরের শুরুতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য যানবাহনে পেট্রলবোমা হামলায় কয়েক ডজন মানুষ হতাহতের ঘটনা ও এর জের ধরে শত শত বিরোধী নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়,

‘সরাসরি হামলায় জড়িত ছিল এমন কাউকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।’

এসএম