নেত্রকোনায় ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়ার আসর ভাঙতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে জুয়াড়িদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে জুয়াড়ি ও পুলিশসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ কমপক্ষে ১১ রাউন্ড ফাঁকাগুলি করে।
শনিবার ভোর রাতে সদর উপজেলার কে.গাতী ইউনিয়নের কাইট্টাহুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সদর উপজেলার পূবকান্দা গ্রামের আরশাদ মীর ও কাইট্টাহুড়ি গ্রামের আবদুল কদ্দুসসহ কয়েকজন মিলে মশুয়া গ্রামে ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করে।
মশুয়া গ্রামে স্থানীয় তিতারজান সমিতি ও পূবকান্দা গ্রামের আবদুল মালেকের ষাঁড়ের মাঝে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেয়া হয়। আশপাশের এলাকা ও পার্শ্ববর্তী দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, বারহাট্টাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত জুয়াড়ি সেখানে জড়ো হয়।
খবর পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ষাঁড়ের লড়াই বন্ধের কথা বলে। এ সময় আয়োজকদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে আয়োজকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কমপক্ষে ১০ রাউন্ড শটগানের গুলি করে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়। শহীদ বেগ নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে একই ইউনিয়নের বন্দপাটলী গ্রামের মাঠে একই দিন ভোরে ষাঁড়ের সঙ্গে লড়াই হয়।
এলাকাবাসী জানান, লড়াইয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার বাজি ধরা হয়। বিভিন্ন এলাকার শতশত জুয়াড়ি সেখানে অংশ নেয়। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় লড়াইটির আয়োজন করা হয়।
এ ছাড়া সদর উপজেলার চল্লিশায় ষাঁড়ের লড়াই থেকে একটি ষাঁড় আটক এবং ঠাকুরাকোনায় লড়াই ভেঙে দিয়েছে পুলিশ।
নেত্রকোনা মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবু তাহের জানান, সদর উপজেলা ও দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় তিতারজান সমিতি ও কাইট্টাহুড়ি গ্রামের কয়েকজন ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করেছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে আয়োজকরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়া খেলতে দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে থানায় জুয়া আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কেএইচ





