ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ কারণে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৭, কক্সবাজারে ৬ এবং খুলনা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৫ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটায় চার নম্বর হুশিয়ারী সংকেতের পরিবর্তে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আজ শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটা নাগাদ ঘূর্ণিঝড় রোয়ানো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থান করছিলো, এটি জোরদার হয়ে চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, একই সাথে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর এবং মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
মূশফিকুর রহমান আরো জানান, এটি ঘন্টায় ৮ কিলোমিটটার বেগে উত্তর- উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়ে ৫৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কিলোমিটার যা ধমকা ও ঝড়ো হাওয়ায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে পশ্চিম- মধ্য বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন পশ্চিম- মধ্যম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এটি ঘনীভূত হয়ে ক্রমান্বয়ে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে আগামী শনিবার (২১ মে) সন্ধ্যা নাগাদ দেশের উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করতে পারে।
এদিকে কাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-নোয়াখালী উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১২শ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। "রোয়ানু" নামে এই ঘূর্ণিঝড়টি ধীরগতিতে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। এর প্রভাবে গত রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। সাগরও উত্তাল হয়ে উঠছে, তাই মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাসমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, বরগুনা, বাগেরহাটসহ বেশকিছু উপকূলীয় অঞ্চলে প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিকে সকল ছুটি বাতিল করে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কর্মস্থলে থাকতে বলা হয়েছে।
বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধের নির্দেশ: বরিশাল ব্যুরো জানায়, দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার কারনে বরিশাল নদী বন্দরের অভ্যন্তরীণ সকল রুটে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। নৌ-সংকেত থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারনে বরিশাল নদী বন্দর থেকে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ৬৫ ফুটের নীচের লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, হঠাৎ করে আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় বরিশাল-পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় নদী বন্দরগুলোতে ২নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। যা শুক্রবারও বলবৎ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বরিশালে ২৯.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বরিশাল নৌ-বন্দরের কর্মকর্তা এবং নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আবহাওয়া অফিস থেকে ২নম্বর সংকেত পাওয়ার পর বরিশাল নদী বন্দরের আভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করা ৬৫ ফুটের নীচের লঞ্চের যাত্রা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
তবে বরিশাল-ঢাকা রুটের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলের প্রতি এখনো কোন নিষেধাজ্ঞা নেই বলে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, আবহাওয়া খারাপ হলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে।
এমবি





