আর্সেনিক দূষণজনিত রোগে বাংলাদেশে কোনো মানুষ মারা যাননি দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (০৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, একটা রিপোর্ট বের হয়েছে, বছরে ৪৩ হাজার লোক আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এটা একটা অবাস্তব ও ভিত্তিহীন রিপোর্ট।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সম্প্রতি আর্সেনিক সংক্রান্ত এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যাতে আর্সেনিক দূষণজনিত রোগে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৩ হাজার লোক মারা যান বলে জানানো হয়।
মন্ত্রী বলেন, এই সংখ্যাকে রিজেক্ট করছি এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশে আর্সেনিকে কেউ মারা যাননি। কোনো এনজিও এ প্রতিবেদন তৈরি করিয়েছে।
মন্ত্রী নিজে সবচেয়ে দুযোগপূর্ণ এলাকার বাসিন্দা দাবি করে বলেন, ফরিদপুর আর্সেনিকে আক্রান্ত এলাকা। আমি সাত বছর ধরে নতুন একটা বাড়ি করেছি। সাত বছরে আর্সেনিকের কারণে কেউ মারা গেছেন, এমন দেখিনি।
সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, আপনারাও তো গ্রামে বাস করেন। আর্সেনিক পানি খেয়ে কেউ মরেছেন, এরকম একটা ঘটনা বলতে পারবেন?
মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে আর্সেনিক শনাক্তের পর ৫১ হাজার নলকূপের পানি পরীক্ষা করিয়ে দেখা যায় আর্সেনিক দূষণের হার ২৯ শতাংশ। ২০০০ সালে আর্সেনিক রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৮ হাজার।
মন্ত্রী বলেন, যেসব নলকূপে খাওয়ার অনুপযোগী আর্সেনিকের মাত্রা ধরা পড়ে, সেগুলোকে লাল রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং জনগণের জন্য সরকার গভীর নলকূপ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করছে। বর্তমানে কেউ আর্সিনিকে আক্রান্ত নেই।
কিছু কিছু বৃদ্ধ মানুষের হাতের আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে শক্ত হয়ে যায় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নতুন করে এই ধরনের আর্সেনিক আক্রান্ত মানুষেরও সন্ধান পাচ্ছি না।
সংস্থাটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, প্রতিবাদ ছাপা হবে, টিভিতে আমার চেহারা দেখাবে, সরকার থেকেও বলবো। তারপরও তারা যদি এটাকে পুশ করতে চায়, তাহলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
এসটি





