কয়েকদিনের তীব্র গরম আর তাপদাহে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা। গরমজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিনই।

আবহাওয়া অফিস বলছে, দু’একদিনের মধ্যে বৃষ্টি হলেও, আগামী ২০শে মে’র পর তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ছোট-বড় সবাইকে রোদ থেকে বেঁচে চলার পাশাপাশি বেশি করে বিশুদ্ধ পানি ও রসালো ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বৈশাখ থেকে গ্রীষ্মকাল শুরু হলেও, চৈত্রে বেশ কিছু দিন বৃষ্টি হওয়ার কারণে এতোদিন গরমের তীব্রতা তেমন একটা বুঝা যায়নি।

তবে গ্রীষ্মের মাঝামাঝিতে এসে সারাদেশে তীব্র তাপদাহের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা অনেকটাই দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ আর জীবীকার তাগিদে তীব্র গরম উপেক্ষা করেও যাদের বাইরে বের হতে হয় তাদের দুর্ভোগ যেন অবর্ণনীয়। তীব্র গরমের কারণে হিটস্ট্রোকসহ নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।  

স্বাভাবিক সময়ে রাজধানীর মহাখালির আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন দেড়শ থেকে ২শ রোগী ভর্তি হলেও বর্তমানে গরমের কারণে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে ৩শ‌'র উপরে রোগী।

গরমজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত তিন দিনে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছে মোট ১ হাজার ২শ’ ১৮ জন; যাদের অধিকাংশই আবার শিশু।

অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে এরই মধ্যে হাসপাতাল চত্বরে তাবু টানিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি বাড়তি ওয়ার্ড। সেখানে ভর্তি অসুস্থ শিশুদের মায়েরা টাইমনিউজবিডিকে জানালেন, শুধুমাত্র গরমের কারণেই তাদের সন্তানরা অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে।

এদিকে গরমজনিত রোগ থেকে বাঁচতে ঢাকা শিশু হাসপাতালের চিকিসৎক অধ্যাপক রহুল আমীন বলেন গরমে রাস্তার পাশের খোলা পানি ও খোলা খাবার-দাবার খাওয়া ঠিক নয়। এর পরিবর্তে ছোটবড় সবাইকে বেশি করে বিশুদ্ধ পানি ও রসালো ফল খাওয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি।

বর্তমানে সারাদেশে যে তাপমাত্রা রয়েছে সেটি এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে ঢাকা আবহাওয়া অফিসের পরিচালক 'মোহাম্মদ শাহ আলম টাইমনিউজবিডিকে জানালেন, আগামী দু’একদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত হলেও, আগামী ২০ মের পরে তাপমাত্রা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে অল্পস্বল্প।কিন্তু বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর আবার গরম পড়ছে। 

অন্যদিকে খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগে একেবারেই বৃষ্টি নেই। এসব অঞ্চলজুড়ে প্রায় দু সপ্তাহ ধরে বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ সময় বৃষ্টি না হলেই গরম বাড়বে। তবে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের কাছাকাছি চলে আসায় ভারতের মতো খরতাপে পুড়তে হবে না এবার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েব সাইট থেকে জানা যায়, আজ ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেখানে এক সপ্তাহ আগে তা ছিল ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গরম ছিল খুলনায়, ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এক সপ্তাহ আগে তা ছিল ২৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ ছাড়া রাজশাহীতে আজকের তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৪, চট্টগ্রামে ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শাহ আলম টাইমনিউজবিডিকে বলেন, বৃষ্টি না হলে গরম বাড়ে। আকাশে মেঘ থাকলেও ভ্যাপসা গরম লাগে।

এ বছর কালবৈশাখীর সঙ্গে বৃষ্টি হওয়ায় ভারতের মতো তীব্র গরম পড়েনি। মৌসুমি বায়ু ১০ জুনের মধ্যে বাংলাদেশ উপকূল পর্যন্ত চলে এলে বর্ষাকাল শুরু হবে। তাই এবার তাপমাত্রা আর বাড়বে না।

এমএ/এসএইচ