দিনাজপুরে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য খরেশ চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী ছেলে মেয়ে ও শ্যালিকার ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শেষে নিজ গ্রামে সমাহিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে তার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জনগাঁও গেন্ডাবাড়ি গ্রামে চির নিদ্রায় শাহিত করা হয় তাঁদের।
মঙ্গলবার ভোরে বিদ্যূতের তার ছিড়ে ঘরের উপরে পড়লে বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ দূর্ঘটনায় ঘুমিয়ে থাকা পরিবারের ৫ সদস্যের মধ্যে খরেশের স্ত্রী কেয়া (৩৫) ও সেলিকা স্বর্ণা (২০) বাড়িতেই দগ্ধ হয়ে মারা যান।
হাসপাতাল নেয়ার পথে তার একমাত্র কণ্যা নাইস (৭) মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খরেশ ও তার ছেলে নির্নয়(১৩) রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। পুজার ছুটিতে বাড়িতে এসে এ দূর্ঘটনার শিকার হন তিনি স্ব-পরিবারে।
খরেশের বাড়িটি নির্নয় ভিলা এখন বিরান ভুমিতে পরিনত হল। খরেশ ঐ গ্রামের সুরেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক তিনটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। অগ্নিকান্ডের কারণ উন্মচোনে মাঠে নেমেছে পুলিশের সাদা পোষাক ধারী ও সি.আই.ডি।
পুলিশ প্রশাসনের গঠিত তদন্ত টিমের প্রধান ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেওয়ান লালন আহমেদ বলেন তিনদিন পর তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হবে।
এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্য খরেশ চন্দ্র রায় সৎ,নিষ্ঠাবান ও দায়িত্ব শীল ও ভালো মানুষ ছিলেন। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু পুলিশ বিভাগকে আহুত করেছে।
অপর দিকে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত টিমের সদস্য ঠাকুরগাঁও দমকল বাহিনীর উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন,বিদ্যূতের তার ছিড়ে ঘরের উপর পরে এই দূর্ঘটনায় একই পরিবারের ৫জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদের হিসাব রক্ষক ও খরেশের প্রতিবেশি দিলিপ চন্দ্র রায় বলেন,রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও রংপুর বিভাগের পুলিশ প্রশাসন অগ্নিদগ্ধদের প্রাণে বাঁচাতে সব ধরণের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। এই পরিবারটিকে স্মরণ করতে গ্রামে স্মৃতিসৌধ নির্মানের দাবি করেছে স্থাণীয়রা।
এই প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো.আব্দুল আওয়াল জানান, সমাহিত করার জন্য সরকারি ভাবে অর্থ বরাদ্ধ দেয়া হয়। এ ছাড়া পরিবারটিকে স্মরণ করে রাখতে আলোচনার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এসএম/সোহেল





