দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনেক বাধা অতিক্রম করে অবশেষে বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতিক্রমে ভারতের লোক সভায় পাস হয়েছে কাঙ্ক্ষিত স্থলসীমান্ত চুক্তি বিল। বিলটি পাস হওয়ায় দীর্ঘ ৬৮ বছরের বন্দি জীবনের মুক্তি মিললো নিজ ভুখণ্ডে বাস করা ভিনদেশি ছিটমহলবাসীর।
এবার তারা পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। লালমনিরহাটের ছিটমহলের বাসিন্দারা এ দাবি জানান।
ছিটমহলবাসী জানান, দীর্ঘপ্রতীক্ষার অবসান ঘটলেও পুনর্বাসনের ব্যাপারে নতুন করে দুঃচিন্তায় পড়েছেন তারা। তাদের মতে, ভারত সরকার ইতোমধ্যে ছিটমহলবাসীর পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন।
অপরদিকে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ছিটমহলবাসীর পুনর্বাসনের জন্য বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেয় নি।
অন্যদিকে, ছিটমহলবাসীর নিরাপত্তা দিতে সংশ্লিষ্ট সব দফতরের প্রতি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেও এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো কর্মকর্তা ছিটমহলে না যাওয়ায় অনেকটাই হতাশ হয়েছেন তারা।
হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর গোতামারী ১ নং ছিটের বাসিন্দা সুলতান হোসেন(৭০), ছকবার আলী(৬৮), আব্দুল বাতেন(৮০) অনেকটা হতাশা প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশি নাগরিক হওয়া। সে প্রত্যাশা আজ পূরণ হতে চলেছে। কিন্তু মিডিয়ায় দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ছিটবাসীর পুনর্বাসনের কোনো ঘোষণা নেই। তাছাড়া এ ছিটমহলে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো কর্মকর্তা আসেন নি।
ওই ছিটমহলের বাসিন্দা আজিমন নেছা(৭০), ছপিয়া বেওয়া(৬৫),রোকেয়া বেওয়া(৬৮) বাংলানিউজকে বলেন, অনেক কষ্টের পর আজ হামরা বাংলাদেশি হইচি বাহে।
বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তারা গৌরবান্বিত বোধ করছেন। তাদের দাবি বাংলাদেশ সরকার যেন তাদের উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন।
ছিটমহল বিনিময় ও সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের লালমনিরহাট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম বলেন, ছিটমহলবাসীর পুনর্বাসনের ঘোষণা না আসায় অনেকেই চিন্তিত। কেউ কেউ পুনর্বাসনের আশায় ভারতীয় নাগরিক হওয়ারও চিন্তা করছেন।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান ছিটবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ৫৯টি ছিটমহল পর্যায়ক্রমে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পরিদর্শনসহ ছিটবাসীর নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। যা চলমান প্রক্রিয়া। সরকারিভাবে যখন যা সিদ্ধান্ত আসবে তাৎক্ষণিক ভাবে ছিটমহলবাসীর কাছে পৌঁছানো হবে।
ছিটমহল চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে বাংলাদেশি ছিটমহল রয়েছে ৫১টি। এর মোট আয়তন প্রায় ৭ হাজার ১১০ একর। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মধ্যে ভারতের ১১১টি ছিটমহলে জমির পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ১৬০ একর।
ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার অধীনে ১৮টি ও লালমনিরহাট জেলার অধীনে ৩৩টি। এগুলো ভারতের কোচবিহার জেলার প্রশাসনিক সীমানার ভেতরে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার। এগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় ১২টি, লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি এবং নীলফামারীতে রয়েছে ৪টি।
এএইচ





