নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) আইন কার্যকর না হওয়ায় চলতি (২০১৭-১৮) অর্থবছরে ২০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতির আশঙ্কা করছে সরকার। তাই ঘাটতি মোকাবিলা করতে বাড়ির স্টাইল অনুযায়ী ট্যাক্স আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “নতুন কৌশল করে বাজেট ঘাটতি পূরণের কথা চিন্তা করছে সরকার। তাই এবার আগেভাগেই বাজেট সংশোধন করা হবে।”
উল্লেখ্য, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী।
নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর না হওয়ায় ঘটতি কিভাবে মেটাবেন- জানতে চাইলে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, “নতুন কৌশলে এ ঘাটতি পূরণ করা হবে।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আগে পরিকল্পনা করেও বাড়িওয়ালাদের ট্যাক্সের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এবার তাদের ট্যাক্সের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছি। আর সেটি হচ্ছে, শুরুতে রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোয় নির্মিত বাড়ির স্টাইল দেখে বাড়িওয়ালাদের ট্যাক্স ধার্য করা হবে।
ধার্যকরা ট্যাক্স নিয়ে বাড়িওয়ালাদের আপত্তি থাকলে তা জানাতে তারা অবশ্যই কর অফিসে আসবেন। আর তখনই কর কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে তার ওপর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের ট্যাক্স ধার্য করা হবে। আর এভাবেই আয় হবে অনেকটা পরিমান রাজস্ব।”
জানা গেছে, এছাড়াও রাজধানী ও রাজধানীর বাইরের বিভাগীয় শহরগুলোয় বসবাসকারী নাগরিক (৪০ বছরের নিচে) এবং যাদের আয় ভালো তাদেরও ট্যাক্সের আওতায় আনা হবে। আর তরুণদের ট্যাক্স দিতে উৎসাহী করতেও নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “দেশে ২৯ লাখ নাগরিক আয়কর রিটার্ন দাখিল করলেও সবাই ট্যাক্স দেন না। রিটার্ন দাখিলকারীদের মধ্য থেকে ট্যাক্স দেওয়ার নাগরিকের সংখ্যা বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “২০০৯ সালে ভূমি কর বাড়ানো হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এবার ভূমি কর বাড়ানোর একটা কৌশল বের করতে হবে। কারণ দেশের সর্বত্র সরকারি হারের অনেক বেশি দামে জমি কেনাবেচা হয় এবং তা আমাদের নাগরিকরাই কেনেন।
রাজস্ব ঘাটতি পূরণে সরকার আয়কর ও করপোরেট করের ওপর জোর দেবে, পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির ওপর থেকে ট্যাক্স কমানো হবে, চিকিৎসকদের ওপর আয়কর আদায়ে জোর দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পাস হয়। বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে মোট আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং অনুদানসহ ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা।
এমবি





