কক্সবাজারের টেকনাফের নয়াপাড়ায় আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুটের ঘটনার অন্যতম হোতা রোহিঙ্গা জঙ্গি খাইরুল আমিন, মাষ্টার আবুল কালাম আজাদ ও হাসান আহম্মদকে কক্সবাজারস্থ র‌্যাব ৭ এর সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার করেছে।

তাদেরে জিজ্ঞেসামতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮ টায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্র“পুরান পাড়া গহীন অরণ্যে থেকে ৫ টি লুন্ঠিত অস্ত্র, ৫ দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও ১৮৯ রাউন্ড চাইনিস রাইফেলের গুলি ও ২৬ টি দেশীয় তৈরি গুলি উদ্ধার করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার র‌্যাব এরব মহাপরিচালক বেনজীর আহম্মদ, আনসার ভিডিপির মহাপরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, র‌্যাব ৭ এর কর্ণেল আনোয়ার, লেঃ কমান্ডার আশিকুর রহমান উদ্ধারকৃত অস্ত্র গুলো কি ভাবে উদ্ধার করা হয়েছে তা ঘুরে দেখেন। অস্ত্র উদ্ধারের পর র‌্যাব এর মহাপরিচালক বেনজীর আহম্মদ সাংবাদিকদের এক প্রেস ব্রিফিংকালে বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোন সন্ত্রাসীদের জায়গা হবে না।

স্বর্ণিভর বাংলাদেশকে র‌্যাব একটি সন্ত্রাসমুক্ত দেশ হিসাবে গড়তে চাই। তিনি বলেন, গত ১২ মে টেকনাফের নয়াপাড়া আনসার ক্যাম্পে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ১১ টি অস্ত্র, ৬ শ রাউন্ড গুলি লুট করে আনসার ক্যাম্পের পিসি আলী হোসনকে হত্যা করে। এ পর্যন্ত পুলিশ র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রফিক ডাকাত সহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

র‌্যাব সদস্যরা এ অঞ্চলে লুট হওয়া অস্ত্র ও মানুষের নিরাপত্তার লক্ষে সার্বক্ষনিক কাজ করে যাবে। আনসার ভিডিপির মহাপরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ৫ টি নয়াপাড়া আনসার ক্যাম্প থেকে লুট হওয়া অস্ত্র বলে সনাক্ত করেছেন। উলে­খ্য কক্সবাজারস্থ র‌্যাব ৭ এর সদস্যরা উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প থেকে খাইরুল আমিন ও মাষ্টার আবুল কালামকে সোমবার গভীর রাতে ২টি অস্ত্র ও ৯ রাউন্ড গুলি সহ উদ্ধার করে তাদের জিজ্ঞেসাবাদ করার পর গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮ টায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু পুরান পাড়া গভীর অরণ্যে থেকে অন্যান্য অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে।

একই সময়ে র‌্যাব ৭ এর সদস্যর আটককৃতদের স্বীকারোক্তিমতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী হাসান আহম্মদকে আটক করে। প্রত্যক্ষদর্শী কুতুপালং এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, আটককৃতরা রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগাইনিজেশনের (আরএসও ) এর সক্রিয় ক্যাডার বলে জানা গেছে।

মানিক/এআই