২০০৯ সালে ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজ থেকে পাস করেন। ৬ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তিনি চাকরি পাননি।

এতদিন ধরে ব্যাচভিত্তিক নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু এখন জানতে পারলেন ব্যাচভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে।

জুবায়দা জানান, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। আজকের (মঙ্গলবার) কর্মসূচিতে ময়মনসিংহ থেকে গাড়ি ভাড়া করে তারা ১৪ জন একসঙ্গে এসেছেন।

শূধু জুবায়দা নন, এরকম শত শত বেকার নার্স দেশের নানা প্রান্ত থেকে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে।

এ সময় কারো কারো মাথায় ও বুকে সাদা কাপড়ে লালকালিতে লেখা ব্যাচভিত্তিক নিয়োগ চাই, ব্যাচভিত্তিক নিয়োগ চাই, নইলে বিষ দাও মরে যাই।

বিকেল ৩টায় কথা হয় জুবায়দার সঙ্গে। দুপুর গড়িযে বিকেল প্রায় শেষ হলেও এখনো দুপুরের খাবারই খাওয়া হয়নি তার। দুপুরের খাবারের প্রশ্নে তিনি কি খাবেন বা আদৌ খাবেন কিনা সে বিষয়ে কিছুই জানেন না।

তবে এ সময় কয়েকজনকে দুপুরের খাবার হিসেবে বাদাম-ঝাল মুড়ির মতো হালকা খাবার আন্দোলনে বসেই খেতে দেখা গেছে।

আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে জুবায়দা রাইজিংবিডিকে জানান, ২০০৯ সালে আমি পাস করেছি। এলাকায় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করে রেখেছি।

আশা ছিল আমার সিনিয়র ব্যাচের নিয়োগ পাওয়ার পর আমার ব্যাচের নিয়োগ হবে। এখন শুনি ব্যাচভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। পাশ করেছি দীর্ঘ ৬ বছর আগে।

এতদিন পরে এসে কেন পূর্বের নিয়ম বাতিল করে নতুন নিয়মে পরীক্ষা দিতে হবে? যদি এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ পেতে হয় তাহলে আগে কেন বলা হয়নি? আমরা আগে থেকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতাম। এখন আমাদের সময়গুলো যে নষ্ট হল এর দায় কে নেবে?

জুবায়দায় পাশেই ছিল ইফফাত আরা। তিনি এসেছেন ময়মসসিংহ থেকে। তারা একই কলেজ থেকে পাস করেছেন। তিনিও ব্যাচভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া পুর্নবহালের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘সকাল থেকে একবার মাত্র চা আর বিস্কুট খেয়েছি।

এখন পর্যন্ত আর কিছুই খাইনি। রাতে কোথায় থাকবো তাও অনিশ্চিত। এভাবে আমাদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্য কি? আমরাওতো মানুষ।

আমাদের অধিকার কেন হরণ করা হবে? আমাদের দাবি পূরণ করে ঘরে ফেরার পথ তৈরি করার দাবি জানাচ্ছি।’

বগুড়া নার্সিং কলেজ থেকে পাশ করা ইসমত আরা জানান, ২০০৬ সালের পর আর ব্যাচভিত্তিক নিয়োগ হয়নি। তার বুকে লেখা ছিল ব্যাচভিত্তিক নিয়োগ চাই, নইলে বিষ দাও মরে যাই- স্লোগান।

আন্দোলনরত মো. মাসুদ রানা নামের একজন জানান, চাকরির অপেক্ষায় থেকে থেকে এমনও আছে যে বয়স ৩৪ পার হয়ে গেছে। এখনও তারা চাকরি পায়নি।

এতদিন ব্যাচভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল বলে আশায় ছিলাম, আগের ব্যাচের পর নিয়োগ পাওয়া যাবে। এখন? এ সময় তিনি নার্সদের নিয়োগের বয়সসীমা ৩৬ বছর রাখার দাবি জানান।

আন্দোলন চলাকালীন বেলা ২টায় সেবা পরিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নিলুফার ফরহাদ ও একই দপ্তরের ডা. মফিদুল্লাহ আসেন।

তখন তারা উপস্থিত আন্দোলনকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা আপনাদের বিয়য়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে যাচ্ছি। আপনারা ঘরে ফিরে যান।

বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারুক হোসাইন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিব এসে ব্যাচভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস না দেয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।’

ব্যাচ, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নার্স নিয়োগের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন।

এসএইচ