সারা দেশের ন্যায় গাইবান্ধা জেলায় ভ্যাপসা গরম জনজীবনে দুর্ভোগ নিয়ে এসেছে। এবারের বর্ষাকাল আষাঢ়ের শুরু থেকেই প্রচন্ড তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরম অব্যহত। জন জীবনে দুর্ভোগ বয়ে এসেছে।

তীব্র গরমে গাইবান্ধা জেলার যেসব অফিস-আদালতের কর্মকর্তা কর্মচারীরা কেবল সিলিং ফ্যানের হাওয়ায় কাজকর্ম সারছেন তারাও হাঁপিয়ে উঠেছেন। আবার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ থেকে বেরিয়ে অনেকেই বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে না পেরে অস্বস্তি বোধ করছেন।

জেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলের জনসাধারণ গরমে কাহিল হয়ে পড়েছে। এর ফলে নানা রোগের প্রাদূর্বভাব দেখা দিয়েছে। প্রচন্ড গরমে রিক্সা-ভ্যান চালকরা বেশির ভাগই সকাল থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকালে সুর্যের তাপ কমার পর রাত পর্যন্ত সময়ে রিক্সা নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছে। আর এই তাপদাহের সাথে তাল মিলিয়ে বিদ্যুতের চলছে ঘন ঘন লোডশেডিং।

অনেকে বিদ্যুৎহীন ঘরে, অফিসে ঠান্ডা হাওয়ার জন্য বিকল্প হিসেবে বাজারে চার্জার ফ্যানের চাহিদা বেড়েছে। এলাকায় রিক্সা-ভ্যানে পানির ফিল্টার মেশিন বসিয়ে লেবুর শরবত বিক্রি হচ্ছে।

গরমে কান্ত পথচারিরা ৫ থেকে ১০টাকার বিনিময়ে তৃষ্ণা মেটাতে গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে। জেলা ও উপজেরা শহরের কনফেকশনারী ও ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোরগুলোতে ফ্রিজে রক্ষিত বিভিন্ন কোম্পানীর কোমল পানীয়, আইসক্রীম, দই ও জুসের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুন।
ফার্মেসী ও অন্যান্য মনোহরী দোকান গুলোতে খাবার স্যালাইন দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। প্রচন্ড গরমে পুকুর/দিঘীর পানিতে এক ধরণের দুর্গন্ধ অনুভূত হচ্ছে। গোসলের পর অনেকের শরীরে চুলকানি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে আষাঢ়ের দাবদাহের সঙ্গে পাল্টা দিয়ে সর্দি, কাশি, ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও প্রাইভেট হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

এর মধ্যে বয়স্ক ও শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। আজ বেশ ক’জন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রচন্ড গরমের কারণে সর্দি কাশিসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা চিকিৎসকের সরনাপন্ন হয়েছে। যেসব শিশুর অবস্থা জটিল তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এআই/