পারিবারিক কলহের জেরে শহরতলীতে গলাটিপে ও পুকুরের পানিতে চুবিয়ে দুই শিশু সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে বাবা।
সদর উপজেলার ঘাঘড়া ইউনিয়নের সুহিলা গ্রামে সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশু দুটির বাবা মো. অলিউল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কোতয়ালী মডেল থানার এএসপি আব্দুর রশিদ জানান, অমানবিক এ হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবেই ঘটিয়েছে শিশু দুটির বাবা মো. অলিউল্লাহ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও জানান, সদর উপজেলার ঘাঘড়া ইউনিয়নের সুহিলা গ্রামের মো. অলিউল্লাহর দুই শিশু নিখোঁজের খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় শিশুদের বাবা ভ্যানচালক মো. অলিউল্লাহ ও স্ত্রী রুখসানার কথাবার্তায় সন্দেহ হয় পুলিশের। পরে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে শিশুদের বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানা ও চাচাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এক পর্যায়ে শিশুদের বাবা অলিউল্লাহ হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশকে জানান, স্ত্রীর সঙ্গে কলহের জেরেই দুই সন্তানকে গলাটিপে ও পুকুরের পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন তিনি।
রুখসানার বাবা ও ভাই রকি জানান, সাত বছর আগে রুখসানা বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় অলিউল্লাহর। বিয়ের পর তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় রুখসানা বাপের বাড়িতে চলে যান। এ নিয়ে অলিউল্লাহ আত্মহত্যা করতে গেলে বাড়ির লোকজন তাকে রক্ষা করেন। পরে অলিউল্লাহর মা-বাবা ও চাচা রুখসানাকে আবার বাড়ি নিয়ে আসেন।
অলিউল্লাহ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, এ সব ঘটনার পর থেকেই তিনি শিশুদের হত্যার পরিকল্পনা করেন। সোমবার রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে মা সালমা বেগমের সঙ্গে থাকা ঘুমন্ত ঐশীকে নিয়ে পুকুরের পানিতে ফেলে হত্যার পর স্ত্রী রুখসানার সঙ্গে থাকা পাঁচ মাসের ঘুমন্ত শিশুপুত্র নোমানকে তুলে নিয়ে পুকুরে ফেলে দেয়। পরে তিনি ঘরে ঢুকে নাটক সাজান। এ ঘটনায় রুখসানার বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কেএইচ





