সব দলের এক অফিস। আপতত দৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হলেও তা সম্ভব হয়েছে পটুয়াখালীতে। জেলা শহরের সদর রোডে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ওই জায়গাতে এখন জেলা আওয়ামী লীগের অফিস। তবে গত সাড়ে তিন দশকে এখানকার সাইনবোর্ড পাল্টেছে ক্ষমতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। যখন যারা ক্ষমতায় এসেছে, অফিস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তুলে দিয়েছে নিজেদের সাইনবোর্ড।
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর জেলা নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জিয়াউর রহমানের আমলে এখানে প্রথম অফিস হয় বিএনপির। এরশাদ ক্ষমতায় এলে তার দলের লোকেরা এখানে বিএনপির সাইনবোর্ড নামিয়ে জাতীয় পার্টির সাইনবোর্ড তোলে। বিএনপির অফিস হয়ে যায় জাতীয় পার্টির অফিস।
নব্বইয়ের গোড়াতে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে জাতীয় পার্টিকে উচ্ছেদ করে হারানো অফিস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
কিন্তু পরের ইলেকশনে আওয়ামী লীগ জিতে গেলে ফের অফিস বেদখল হয় বিএনপির। পরের বার চারদলীয় জোটের কাছে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হলে বিএনপি আবারও অফিসের দখল নেয়।
এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে হাতছাড়া হয়ে যাওয়া অফিস ফের কব্জায় নিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ। এভাবে গত ৩৬ বছরে অন্তত ৬ বার পাল্টে গেছে একই অফিসের সাইনবোর্ড।
বর্তমানে সামনের দরোজার ওপরে পুরোটা জুড়ে সাইনবোর্ড। মাঝে জেলা আওয়ামী লীগ। একপাশে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, জেলা শ্রমিকলীগ ও জেলা কৃষক লীগ এবং অপরপাশে পৌর আওয়ামী লীগ, জেলা পুবলীগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ও জেলা ছাত্রলীগের সাইনবোর্ড। সব মিলিয়ে ঢাকার কোন ক্লিনিকে ঝোলানো ডাক্তারদের নাম সম্বলিত সাইনবোর্ডের রূপ নিয়েছে।
ওই অফিস বিএনপির বলে দাবি করছেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে অফিসের ওই জায়গা আমাদের নামে লিজ নেওয়া। সেখান থেকে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান টোটনের দাবি, আওয়ামী লীগ আমাদের অফিস দখল করে আছে। কিন্তু ওই অফিসের আমরাই একমাত্র বৈধ দাবিদার। জিয়াউর রহমান ওই অফিসের জমি জেলা বিএনপিকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, গত জোট আমলে আমরা শেষবারের মতো আইনি প্রক্রিয়ায় অফিস উদ্ধার করি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ফের অফিস দখলে নেয়।
ওই সময় অফিসের টেলিভিশন ও স্টিলের আলমারিসহ লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্র আওয়ামী লীগের কর্মীরা মেরে দেন বলেও অভিযোগ করেন টোটন।
তবে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা অফিস উদ্ধার করেছি আইনি প্রক্রিয়ায়।
তিনি বলেন, ওখানে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি, কখনো জাতীয় পার্টির অফিস ছিলো। ওটা ছিলো অর্পিত সম্পত্তি। এখন ওখানে আওয়ামী লীগের অফিস আছে। দেখি, আমরা ওই জায়গা কিনে নিতে পারি কি না।
ঢাকা, ৩০ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





