সাদুল্যাপুরের ধাপেরহাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকদের হামলায় ইউএনও, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্য আহত এবং পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।
সাদুল্যাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রামজীবন সরকার বাদি হয়ে রবিবার বিকালে সাদুল্যাপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় ধাপেরহাট ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম নওশাকে প্রধান আসামি সহ ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে ধাপেরহাটের আরও ৩-৪ হাজার অজ্ঞাত নারী-পুরুষকে আসামি করা হয়েছে।
সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরহাদ ইমরুল কায়েস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোট গণনা শেষে শনিবার রাত ৯টার দিকে আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নওশা ও তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’র গুজব ছড়িয়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ধাপেরহাট বন্দরের ফাইভ স্টার মোড়ে অবস্থান নিয়ে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করলে খবর পেয়ে সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রায়হান দোলনের নেতৃত্বে বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।
অবরোধকারীরা বিক্ষোভ করে পুলিশে দুটি গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং তাদের উপর হামলা চালায়। এতে ইউএনও, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ ১০ জন আহত হন।
পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম জানান, অবরোধকারীদের সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। চেয়ারম্যান প্রার্থী নওশা’র সমর্থকদের হামলায় ও গুলিতে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ধাপেরহাট শাখার অফিস সহকারী (পিওন) লেবু মন্ডল আহত হন। তাকে রংপুর মেডিকেলে নেওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, চেয়ারম্যান প্রার্থী নওশা’র সমর্থকদের হামলায় আহত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যর মধ্যে পুলিশের ড্রাইভার জাফরকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় ঘটনায় আরও দু’টি মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
হামলার বিষয়ে ধাপেরহাট ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম নওশার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমআইএস





