আগামী ৬ সেপ্টেম্বর মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদ-উল-আযহা। ঈদকে সামনে রেখে এখন অনেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন কোরবানীর পশু কেনা-কাটায়। পছন্দমত পশু কিনতে একটু আগে ভাগেই হাটে নামতে দেখা গেছে অনেককেই। তবে জেলার অনেক হাটেই কোরবানী পশুর দাম এ মুর্হতে তুলনামূলক কম। আর এতে বিক্রেতারা ব্যবসায়ীক ক্ষতির স্বীকার হচ্ছেন। তবে সন্তুষ্ট ক্রেতারা।
মাঝে বৃষ্টির হানা সত্ত্বেও গেল সপ্তাহ থেকেই জমজমাট রাজশাহী জেলার পশুর হাটগুলো। ওই সব হাটে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে নামছে কুরবানীর পশু। তবে বেচাকেনা প্রথম দিকে কম থাকলেও আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করেছে।
বেশ কয়েক বছর ধরে রাজশাহী নগরীতে কোন কোরবানি হাট বসছে না। সিটি কর্পোরেশনের অধীনস্থ সিটি হাট পুরোদমে চালু থাকায় আর নতুন করে পশুর হাট বসানোর প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে নগর সংস্থা। ওই হাট রাজশাহী অঞ্চলের সব চেয়ে বড় কুরবানী পশুর হাট।
এদিকে,জেলার পশু হাটগুলো চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠবে বলে স্থানীয়রা জানান। এরই মধ্যে কোরবানী পশুর আমদানী সন্তোষজনক হওয়ায় নগরীর সিটি হাট চলছে পুরোদমে। সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত এ হাটটিতে প্রতিদিন বেচাকেনা চালু থাকার কথা থাকলেও সপ্তাহে দুদিন-রোববার ও বুধবার এটি বসে।
প্রজ্ঞাপনে প্রাত্যহিক হাটের কথা উল্লেখ থাকলেও ইজারাদাররা কেন সে নিয়ম মানছেন না। ফলে একই দিনে সংঘটিত জেলার অন্য সব হাটের বেচাকেনা অনেকাংশে কমে গেছ।
এমনকি বেশ কয়েকটি হাট উঠে যাবার উপক্রম হয়েছে। নগরী ও তার আশেপাশের ক্রেতাগণ সিটি হাট থেকে পছন্দের কোরবানীপশু কিনতে পারবেন। দেশী-বিদেশী সব ধরনের পশুর সমাগম ঘটে এ হাটে। ক্রেতাদের তালিকায় রয়েছেন ঢাকাসহ সারা দেশের পাইকাররা।
সিটি হাটে গেলো সপ্তাহে নূন্যতম ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামের কোরবানী গরু বেচা কেনা হয়েছে বলে ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু জানান। তিনি বলেন, বর্তমান দামে বিক্রেতারা মোটামুটি সন্তুষ্ট। এছাড়া সাধ্যের মধ্যে পছন্দের কোরবানী পশু কিনতে পেরে সন্তুষ্ট সাধারণ ক্রেতারাও।
তিনি বলেন, বর্তমানে সিটি হাটে কেনা-বেচা জমজমাট। জাল টাকা সনাক্ত করতে ব্যাংকগুলো এখনো কোন মেশিন স্থাপন করেনি হাটে। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্থে তারা নিজেরাই মেশিন বসিয়েছেন।
এছাড়া হয়রানি, ছিনতাই, মলমপার্টি ও প্রতারণা ঠেকাতে তারা সব সময় তৎপর রয়েছেন। এছাড়া আইনশৃংখলা বাহিনী সার্বক্ষনিক সহায়তা দিচ্ছে। আগামী রোববার থেকে প্রতি দিনই হাট বসবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, সিটি হাট চালুর পর থেকে নগরীর কোরবানী পশুর আরেক হাট দামকুড়া হাট এখন বন্ধ। এছাড়া বন্ধ হবার উপক্রম গোদাগাড়ীর ঐতিহ্যবাহী মহিশালবাড়ি পশুহাট।
একই দিনে সংঘটিত হবার কারণে সেখানে এখন গরুর আমদানী শূণ্যের কোটায়। তবে আসন্ন কোরবানী ঈকে সামনে রেখে ওই হাটে ছাগলের আমদানি কিছুটা বেড়েছে।
গত সপ্তাহে এ হাটে নূন্যতম সাড়ে ৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামে ছাগল বেচাকেনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহেছাগলের দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলে বিক্রেতারা জানান। একই সঙ্গে হাটে গরুর আমদানি কিছুটা বাড়বে বলে তারা উল্লেখ করেন।
সোমবার ও বৃহস্পতিবার বসে জেলার অপর পশুহাট পবার নওহাটা। এছাড়া রোববার ও বুধবার মোহনপুরের কেশরহাট এবং সোমবার ও শুক্রবার চৌবাড়িয়।
পাশপাশি শুক্রবার ও সোমবার বাগমারার তাহেরপুর, রোববার ও বুধবার দূর্গাপুর, শনিবার পুঠিয়ার সদর, শুক্রবার ও সোমবার বানেশ্বর এবং কাটাখালি পশুর হাটেও কোরবানী পশুর বেচাকেনা হয়।
গত সপ্তাহ থেকেই এসব হাটে নামতে শুরু করেছে কোরবানী পশু। জেলার সব হাটেই পশুরদাম এ মূহূর্তে স্বাভাবিক বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সেই সঙ্গে চলতি সপ্তাহ জুড়ে কোরবানী পশুর বাজার সরগরম থাকবে উঠবে বলে জানান তারা।
অন্যদিকে, জেলার পশুহাট গুলোতে মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির উপায়ের মোটাতাজা করা, অসুস্থ্য ও রুগ্ন গরু কেনাবেচা প্রতিরোধে কাজ করছে প্রাণী সম্পদ দফতর। জেলা প্রাণী সম্পদক কর্মকর্তা ড. মোঃ মীজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে জেলার প্রতিটি উপজেলায় একজন সার্জনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি করে দল গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত পশুহাটে গিয়ে ওই দল এ সব বিষয় দেখভাল করছে।
এছাড়া সব ধরণের তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করতে খোলা হয়েছে আলাদা মনিটরিং সেল। যে কেউ উপজেলা প্রাণী সম্পদ দফতরে গিয়ে এমনকি মোবাইলে যোগাযোগ করে খুটিনাটি বিষয় জেনে নিতে পারবেন।
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





