'কোম্পানির গাড়ি চালালে পাই ৪০০ টাকা। দিন শেষে কোম্পানি নগদ টাকা হাতে ধরিয়ে দেয়। কিন্তু গাড়ি রিক্যুইজিশনে নিলে পুলিশ দিন প্রতি খোরাকি(মজুরি) দেয় মাত্র ৫০ টাকা। এই টাকাও নগদ দেয় না পুলিশ। রাজারবাগ পুলিশ লাইনে গিয়ে টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হয়। এই ৫০ টাকা আনতে গিয়ে দিন শেষ। কোম্পানির গাড়ি আর চালানো হয়ে ওঠে না। ৫০ টাকার জন্য আমার ৪০০ টাকা লোকসান।'
কথাগুলো বলছিলেন গাবতলী-যাত্রাবাড়ী রুটের ৮ নম্বর লোকাল বাসের ( ঢাকা মেট্রো-১৭১০) ড্রাইভার সালাহউদ্দিন। কল্যাণপুর থেকে ফার্মগেট আসার পথে কথা হয় তার সাথে।
সালাহউদ্দিন বলেন, 'পুলিশ গাড়ি রিক্যুইজিশনে নেয় সাধারণত ১ থেকে ৩ দিনের জন্য। বাড়তে বাড়তে তা ১০ দিনও ছাড়িয়ে যায়।
গাড়ি রিক্যুইজিশনে থাকলে গাড়ির মালিক কর্তৃপক্ষ ড্রাইভিং বাবদ কোনো টাকা পরিশোধ করে না। আর পুলিশও নগদ কোনো টাকা দেয় না। ৫০ টাকা আনার জন্য যেতে বলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে। সেখানে যেতে-আসতে আড়াই ঘন্টা সময় ব্যয় হয়। এখানেই শেষ না, পুলিশ কর্মকর্তাদের টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হয়। ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তার টেবিল পর্যন্ত ঘুরেছি। অনেক কটু কথা শোনার পর হাতে পেয়েছি কাঙ্গালের ৫০ টাকা।'
এই ৫০ টাকা তুলতে গিয়ে প্রায় পুরো দিনটা ব্যয় করতে হয়। এতে ঐ দিনেরও ৪ শ' টাকার খোরাকি থকে বঞ্চিত হতে হয়। এসব জটিলতার কারণে আগের মতো আর টাকা তুলতে যাওয়া হয় না বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন ১৫ বছর যাবত রাজধানীতে গাড়ি চালান। মা, বউ আর এক ছেলে নিয়ে সংসার তার। থাকেন গাবতলীর বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায়। তার আয় দিয়ে চলে পুরো সংসার।
সালাহউদ্দিন বলেন, পুলিশ ইচ্ছা করলেই কিন্তু দিনের টাকা দিনেই দিয়ে দিতে পারে। কিন্তু তা না করে গরিবের টাকা মেরে দেয় তারা। এভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ গরিব চালকদের টাকা মেরে দিচ্ছে পুলিশ। কিন্তু আমরা গাড়ি চালকরা কিভাবে প্রতিবাদ করবো? আর প্রতিবাদ করলেও কে বা আমাদের কথা আমলে নেবে? প্রশ্ন করেন তিনি।
'গাড়ি রিক্যুইজিশনের কথা শুনলেই এখন ভয় পাই। গাড়ী রিক্যুইজিশনে গেলে খোরাকিও মিলে না, বিশ্রামও মিলে না' বলেন সালাহউদ্দিন।
'গাড়ি রিক্যুইজিশনে গেলে নিজের চলাই দায় হয়ে পড়ে। টাকা-পয়সা, ধার-দেনা করে চলতে হয়। কখনো উপোস থাকতে হয়। এ সময় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়।'
সালাহউদ্দিন বলেন, 'মালিকপক্ষকে একাধিকবার বলেছি গাড়ি রিক্যুইজিশনে গেলে যেন পুলিশ, নগদ টাকা দিয়ে দেয়। কিন্তু পুলিশই টাকা দিতে চায় না। আবার গাড়ি রিক্যুইজিশনে গেলে মালিকরাও অনেক বিষয় থেকে ছাড় পান বলে কিছু বলে না। তাই পুলিশও ইচ্ছে মতো ফাও পরিবহন সেবা গ্রহণ করছেন। মালিকও টাকা দেয় না, পুলিশ নামে মাত্র যে টাকা দেয় তাও উত্তোলন করা হয় না। এ যেন খাজনার চাইতে বাজনা বেশি।'
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, এর বাইরেও হয়রানির শিকার হতে হয়। মালিকের প্রায় ২৫০টি গাড়ি রয়েছে। প্রতি মাসেই সব গাড়ি রিক্যুইজিশনে নেয় পুলিশ। তবে কোনো গাড়ি একদিনেই পার পেলে ড্রাইভার হিসেবে পার পাই না। কাগজপত্র দেখার কথা বলে ট্রাফিক সার্জন আর এসআই'দের হয়রানির শিকার হতে হয়। শেষে টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে ছাড় মেলে।
সালাহউদ্দিন বিষন্নচিত্তে বলেন, জন্মগ্রহণ করে মনে হয় পাপ হয়েছে। তাই আজ ড্রাইভারি করতে হচ্ছে।
[b]ঢাকা, জেইউ, ২৭ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এসআর//এএইচ[/b]