বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ইরাকে আপাতত জনশক্তি রফতানি বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেনকে উদ্ধৃত করে শুক্রবার রাতে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।

মন্ত্রী জানান, তারা ইরাকে জনশক্তি পাঠানো বন্ধ রাখছেন এবং পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।

তবে বেসরকারি জনশক্তি রফতানিকারকরা বলেছেন, ইরাকের যেখানে সমস্যা হচ্ছে তা বাগদাদ থেকে অনেক দূরে এবং সেখানে বাংলাদেশি খুব কমই থাকেন। সুতরাং রফতানি পুরো বন্ধ করার প্রয়োজন ছিল না।

ইরাকে একসময় প্রচুর বাংলাদেশি কাজ করলেও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রায় সবাই দেশে ফেরত এসেছিলেন। পরবর্তীতে যুদ্ধ শেষ হলে ২০০৯ সাল থেকে আবারো বাংলাদেশি জনশক্তি সেখানে যাওয়া শুরু করে এবং সরকারি হিসেবে সেই সংখ্যা বলা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজারের মতো।

তবে সম্প্রতি ইরাকের পূর্বাঞ্চলীয় দিয়ালায় নিজেদের অবস্থান আরো জোরদার করছে ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী আইসিস। মসুল এবং সাদ্দাম হোসেনের জন্মস্থান তিকরিতে তাদের অবস্থান সংহত করার পর, আইসিস এখন রাজধানী বাগদাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার হুমকি দিয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে জনশক্তি রফতানি আপাতত বন্ধ রাখার কথা বিবিসিকে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন।

গত কয়েক বছরে ইরাকে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও সেখানে নিয়মিত শ্রমিক পাঠিয়েছে এবং অনেকে বাংলাদেশি শ্রমিক সেখানে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।

কিন্তু প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলছেন, এতে করে খুব একটা অনিশ্চয়তা যে সৃষ্টি হবে তা তিনি মনে করেন না।

অবশ্য জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব মনসুর আহমেদ কালাম বিবিসিকে বলেছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত হয়তো সঠিক কিন্তু এটাও ঠিক যে ইরাকের এই সঙ্কট রফতানিকারকদের কিছু ক্ষতির মুখোমুখি করবে।

তিনি জানান, ইরাকের সংকটের কারণে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার শ্রমিক আটকে পড়বে বলে তারা অনুমান করছেন।

তবে সরাসরি ইরাকে জনশক্তি রফতানি করেন এমন একজন জনশক্তি রফতানিকারক ফেমেক্স ট্রেড এসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রহমান খান বলেছেন, ইরাকের যেখানে সমস্যা হচ্ছে তা বাগদাদ থেকে অনেক দূরে। ফলে সব জায়গায় লোক পাঠানো বন্ধের সিদ্ধান্ত না নিলেও হতো।

অবশ্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী হোসেন জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন এবং নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি হলেই কেবল আবারো লোক পাঠানোর বিষয়টি ভাববেন তারা।

ঢাকা, ১৪ জুন(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস