নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী ইউনিয়নের ডহর চাঁচুড়ী গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের এক গৃহবধু সম্প্রতি শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে আসামীর পিতা আ’লীগ নেতার নির্দেশে পুলিশ মামলা না নিয়ে বাদীকে রাত পর্যন্ত থানায় আটকে রাখেন।

এরপর গ্রাম্য সালিশি বসিয়ে উল্টো বাদী পক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এদিকে থানায় মামলা করতে না পেরে ১৮ আগস্ট ধর্ষণ চেষ্টাকারী ওই বখাটের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নড়াইল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন শ্লীলতা হানীর শিকার ওই মহিলা।

অপরদিকে আসামীর পিতা আ’লীগ নেতা ও সাবেক কালিয়া উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ওই মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে কালিয়া থানায় পাল্টা হয়রানী মূলক একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পাশাপাশি অব্যাহতভাবে গুম, ইজ্জত হনন ও ভয়ভীতি সহ বিভিন্ন হুমকিতে ওই গৃহবধু ও তার পরিবার ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়েছেন বলে শুক্রবার এক অভিযোগে জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকা বাসির সুত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ডহরচাঁচুড়ী গ্রামের এক গৃহবধুকে মধ্যরাতে ওৎ পেতে থেকে বসতঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় পাশের কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রভাবশালী গোলাম মোস্তফার বখাটে ছেলে মিজানুর রহমান মুকুল (৩০)।

পলায়নকালে লোকজন ধর্ষণ চেষ্টাকারীকে হাতে-নাতে ধরে স্থানীয় জনতা উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বদলে রহস্যজনক কারণে আসামীকে ছেড়ে দেয়। উল্টো মোস্তফা প্রকৃত অপরাধকে আড়াল করতে গ্রাম্য সালিশি বৈঠকে ধর্ষণ চেষ্টাকারী ছেলেকে কথিত মারধরের অভিযোগ এনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে নির্যাতিত পরিবারকে গ্রামছাড়া করার হুমকি দেয়।

শ্লীলতাহানির মামলাটি তুলে নিতে মোস্তফা লোকজন নিয়ে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর্যপুরি হুমকি দিয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে মোস্তফা গংদের বিরুদ্ধে ২২ আগস্ট আদালতে ৭ ধারা মামলা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মামলার বাদী পুলিশের প্রধানের (আইজিপি) নিকট জান-মালের নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।

নির্যাতিতা গৃহবধূ বলেন, ‘ধর্ষণ চেষ্টাকারী মুকুল মোল্যা র্দীর্ঘদিন যাবৎ তাকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিলো। সুযোগ পেলেই বিভিন্ন রকম কু-প্রস্তাব দিতো।

সব দিক থেকে ব্যর্থ হয়ে ঘটনার দিন গভীর রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হই। এই সুযোগে সে ঘরের মধ্যে ঢুকে লুকিয়ে থাকে।

এরপর শোবারকালে সে আমাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।’

এ প্রসঙ্গে চাঁচুড়ী ইউনিয়নের আ’লীগের সাবেক সভাপতি নাজির মোল্যা বলেন,‘ ধর্ষণ চেষ্টাকারীর পিতা মোস্তফা ছেলের অপরাধকে আড়াল করতে নির্যাতিত পক্ষকে থানায় আটকে রেখে একটি প্রহসনমূলক সালিশ করে উল্টো জরিমানা করেছে।’

এ ব্যাপারে কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ গণি মিয়া জানান, ঘটনার শিকার গৃহবধুর শশুরকে থানায় অভিযোগ দিতে বললে তিনি মামলা করতে রাজি হননি। তাকে আমরা থানায় আটকে রাখিনি, আমার কক্ষে বসিয়ে রেখেছিলাম মাত্র।’

আসামী ছেড়ে দেয়া প্রসঙ্গে কালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মো. আঃ করিম বলেন, ‘ধর্ষণ চেষ্টাকালে গণধোলাইয়ের ঘটনায় মুকুল অসুস্থ্য হওয়ায় চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

এ বিষয়ে মতামত জানতে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,‘আমি বর্তমান ঢাকায় আছি ছেলের চিকিৎসার জন্য।

প্রতিপক্ষরা আমার ছেলেকে কয়েকদিন আগে রাতে ধরে নিয়ে নির্যাতন করেছে। যে কারণে থানায় মামলা করা হয়েছে।

তবে তার ছেলে মুকুলের বিরুদ্ধে শ্লীলতা হানির মামলা সম্পর্কে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি’।

রিন্টু/এসএম