লিচু সুস্বাদু ফল সন্দেহ নেই। কিন্তু যখন শিশুরা লিচু খেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তখনই হিসেবটা অন্যরকম হয়ে যায়।

গত কয়েক বছর ধরেই লিচু খাওয়ার ফলে শিশু মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। বাংলাদেশে এই মৃত্যুর হার খুব বেশি না হলেও ভারতে এই ফল খাওয়ার ফলে শিশু মৃত্যুর হার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

গত ১০ দিনে ভারতের উত্তরাঞ্চলে লিচু খাওয়ার পর অন্তত ১০৩ জন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। দেশটির বিহার প্রদেশের মুজাফফরপুর জেলায় মৃত্যু হওয়া এসব শিশুর অধিকাংশের বয়স ১০ বছরের নিচে। ১৯৯৪ সালে ২০১৪ সালের মধ্যে এ ফল খেয়ে রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় কমপক্ষে ১০০০ জন শিশুর৷

শুধু ভারতেই নয়, লিচু খেয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এ দেশেও। ২০১২ সালে দিনাজপুরে ১৩ শিশুর মৃত্যু ঘটেছিল লিচু খাওয়ার ফলে। ২০১৫ সালেও একই কারণে একই জেলাতেই ১১ শিশুর মৃত্যু ঘটে। এইসব মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই এই ফলটি শিশুর অভিভাবকদের কাছে একটি ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, হাইপোগ্লাইসিনের নামের বিষাক্ত পদার্থ এবং লিচুতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বাচ্চারা মারাত্মক হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় ভোগে, কখনো খিচুনি ওঠে অথবা হাইপোগ্লাইসিনের কারণে তারা মারা যায়। এটা মূলত উত্তর ভারতের দিকেই হয়, যেখানে অভাবের কারণে বাচ্চারা একবেলা না খেয়ে থাকে, আর লিচু সেখানে খুবই সস্তা বলে রাতের খাবারের পরিবর্তে তারা লিচু খায়।

তবে বাংলাদেশের শিশুদেরও এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রবলভাবে আছে। তাই শিশুর অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসকরা বলেন, রাতে বা দিনে খালি পেটে লিচু না খাওয়া ভালো। খেলেও যেন সঙ্গে অন্য খাবার খায়, যাতে ব্লাড সুগার লেভেল না কমে যায়। এছাড়া গ্রামের যেসব শিশুরা ম্যালনিউট্রশনে ভুগছে তাদেরকে খালি পেটে লিচু না খাওয়ানোরও কথা বলা হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কথাসাহিত্যিক আশরাফ জুয়েলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যেসব বাচ্চা সাধারণত ম্যালনিউট্রশনে ভোগে, তাদের সুগার লেভেল আগে থেকেই কম থাকে। এবং যে সমস্ত বাচ্চা রাতের খাবার না খেয়ে লিচু খেয়ে ঘুমিয়ে যায়, তাদের সুগার লেভেল আরও কমে যায়।’

এর কারণ সম্পর্কেও জানান এই চিকিৎসক। তিনি বলেন, ‘হাইপোগ্লাইসিনের নামের বিষাক্ত পদার্থ এবং লিচুতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে সেইসব বাচ্চারা মারাত্মক হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় ভোগে, কখনো খিচুনি উঠে অথবা হাইপোগ্লাইসিনের কারণে তারা মারা যায়।

এটা মূলত উত্তর ভারতের দিকেই হয়, যেখানে অভাবের কারনে বাচ্চারা একবেলা না খেয়ে থাকে, আর লিচু সেখানে খুবই সস্তা বলে রাতের খাবারের পরিবর্তে তারা লিচু খায়।’

এএস