আজ ৪ঠা জানুয়ারি তেভাগা আন্দোলন দিবস। সামাজিক ন্যায্যতা,কৃষি উৎপাদন ও সুষ্ঠু বণ্টনের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই ছিলো তেভাগা আন্দোলনের প্রতীক। শোষণ, লাঞ্ছনা-বঞ্ছনা আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে অধিকার আদায়ের লক্ষেই সংঘটিত হয়েছিলো এ আন্দোলন। দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টির ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়নে এ দিবসটি পালিত হচ্ছে দিনাজপুরে। নেয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি।

'জান দেবো তো, ধান দেবো না; আধি নাই, তেভাগা চাই।' এই দাবিতে ৬৯ বছর আগে হয়েছিলো তেভাগা আন্দোলন। ফসল উৎপাদন ও বণ্টনে দুই-তৃতীয়াংশ দিতে হবে বর্গা চাষীদের, এটাই ছিলো তেভাগা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। বর্গাদারদের নিজ উঠানে ধান তোলাকে কেন্দ্র করে ১৯৪৬ সালে তেভাগা আন্দোলন রূপ নেয় সংঘাতে।

দিনাজপুর,রংপুর,রাজশাহী,যশোর,খুলনা কুষ্টিয়া ও জলপাইগুড়িসহ বেশ কিছু স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এ আন্দোলন। জোরদারের লাঠিয়াল বাহিনী ও পুলিশের নিপিড়ন-নির্যাতন বেড়ে যায়, বর্গাচাষীদের ওপর।

তেভাগা আন্দোলনে ১৯৪৭ সালের ৪ জানুয়ারি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার তালপুকুর-বাজিতপুর চেন্টু বটতলায় প্রথম শহীদ হন বর্গাচাষী সমির উদ্দীন ও শিবরাম। সেই দিন সংঘর্ষে তীরবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় আরেক পুলিশ সদস্য। 

তেভাগা চেতনা পরিষদ এবং তেভাগা দিবস উদ্যাপন কমিটি ব্যাপক কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিনাজপুরে পালন করছে এই দিনটি। সকাল সাড়ে ১০টায় চিরিরবন্দর উপজেলার তালপুকুর-বাজিতপুর চেন্টু বটতলায় তেভাগা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দ্বীনো বন্ধু রায় এ দিবসটি উদ্বোধন করেন।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠান কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে তেভাগা আন্দোলনে শহীদের স্মৃতি স্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ, র‌্যালি, আলোচনা সভা, কৃষকদের বিভিন্ন খেলায় অংশ গ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এআর