“দেশে অভিবাসী অধিকার সংরক্ষণ ও তাদের কল্যাণে যথাযথআইনের অভাবে দেশে ও বিদেশে নানাভাবে শোষিত, নির্যাতিত ও প্রতারিত হচ্ছে।”
সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে ওয়্যারবির আয়োজনে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় ওয়্যারবির চেয়ারম্যান সাঈদ সাফিউল হকের সভাপতিত্বে এবং ডাইরেক্ট জেসিয়া খাতুনের সঞ্চলনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সংসদ সদস্য মো. ইস্রাফিল আলম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় গার্হস্থ্য মহিলা শ্রমিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি মুরশেদা আক্তার নাহার, বিওএএফ এর চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান।
এ বছরের ওয়্যারবির মহান মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- “সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ।”
প্রধান অতিথি ইস্রাফিল আলম বলেন, এই বিশেষ দিনে আমরা সকল অভিবাসী ভাই ও বোনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই, যাদের শ্রম , ঘ্যম, আত্মত্যাগ ও কষ্ট আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশ হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রমিক প্রেরণকারী একটি দেশ। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবিকার তাগিদে বিদেশে যায়। জনসংখ্যা, নানাবিধ সামাজিক প্রতিকূলতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দারিদ্রতার কারণে আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের অভাব বেড়েই চলেছে। এই অবস্থা হতে পরিত্রাণ পেতে বেকারত্ব দূর করতে দেশের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী অভিবাসনে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর এদেশ থেকে গড়ে ২, ১৩, ৮৮৭ জন নারী-পুরুষ কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পেশায় চাকুরী নিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৭৬ সাল থেকে মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত ১২,৩৬৪,৪৫২ জন নারী-পুরুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পেশায় চাকুরী নিয়ে গেছেন।
ইস্রাফিল আলম আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত এক হিসাবে দেখা যায় যে, ১৯৭৬ সাল থেকে মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের পরিমাণ ১৯৬,১০৬,২০ মিলিয়ন ইউএসডি। গন্তব্য দেশসমূহের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, সৌদি আরব, ওমান, লেবানন ও কাতার। বাকিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছেন। এ সকল অভিবাসী শ্রমিকের অধিকাংশ স্বল্পদক্ষ কর্মী ও স্বল্পশিক্ষিত।
এমপি বলেন, বেশিরভাগ অভিবাসী শ্রমিকের নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায় ও দেশে অভিবাসী অধিকার সংরক্ষণ ও তাদের কল্যাণে যথাযথআইনের অভাবে দেশে ও বিদেশে নানাভাবে শোষিত, নির্যাতিত ও প্রতারিত হচ্ছে। যদিও তারা অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখছে তারপরেও তারাই সবচেয়ে বঞ্চিত এবং শোষিত।
তিনি আরও বলেন, তাদের মধ্যে অনেকে দিনে ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করে এবং ন্যূনতম মজুরি পায় না। বিদেশে কাজ করার সময় তারা শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হন। এমনকি, তাদেরকে কাজের জায়গায় তালাবদ্ধ রাখা হয়।
ইস্রাফিল আলম বলেন, জাতিসংঘের অভিবাসী বিষয়ক বিভাগের মতে, ১০ জন অভিবাসী শ্রমিকের মধ্যে ৭ জন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন।
ওয়্যারবির চেয়ারম্যান সাফিউল আলম বলেন, ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন বরাবরই শ্রমিকের অধিকার আদায়ে সরব ছিল এবং আমরা বিশ্বাস করি যে, সরকার, সুশীল সমাজ এবং মানবাধিকার কর্মীদের সচেতন প্রচেষ্টাই পারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে।
মতবিনিময় সভায় ওয়্যারবির আমাদের দাবি সমূহ ছিলো- বিনা খরচে বিদেশ গমন নিশ্চিত করতে হবে। অভিবাসী শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা, বিশ্রাম ও ছুটির সময় নিশ্চিত করতে হবে। অভিবাসী গৃহশ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আইএলও কনভেনশন-১৮৯ অণুস্বাক্ষর করতে হবে।
এসএম/এমবি





