মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বন্ধ, তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়া এবং ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার রক্ষার দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন ও র্যালি করেছেন মুসুল্লিরা।
আজ (শুক্রবার) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের উত্তর গেট থেকে র্যালিটি বের করা হয়। ‘ঢাকা বাংলাদেশ’-এই ব্যানারে বের করা হয় র্যালিটি।
র্যালিতে অংশ নেয়া মুসুল্লিরা অবিলম্বে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর সব ধরণের নির্যাতন বন্ধ করে তাদেরকে নিজ ভূখন্ডে শান্তিতে বসবাস করার সুযোগ দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহবান জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, পবিত্র রমযান মাসেও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় অনেক মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন এখনও বন্ধ হয়নি দাবি করে বক্তারা বলেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে, পাশবিক নির্যাতন থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা পর্যন্ত।

ঐতিহাসিকভাবেই রোহিঙ্গা মুসলমানরা বৈধ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাদের কাছ থেকে নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে মানবতার স্বার্থে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গ মুসলমানদের ওপর সব ধরনের অমানবিক নির্যাতন সত্ত্বেও মানবাধিকার রক্ষায় জড়িতরা তেমন কোন জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছেন না অভিযোগ এনে বক্তারা অন্য সব ধর্মালম্বী মানুষের মতোই রোহিঙ্গা মুসলমানদেরও মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিকমহল যখন চাপ সৃষ্টি করে আসছে তখন বিশ্ববাসীর চোখের আড়ালে মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশের গ্রামগুলিতে হত্যা, নারী নির্যাতন ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। আর এসব ঘটনায় উগ্র বৌদ্ধ রাখাইনরা ছাড়াও সরকারী বাহিনীর জড়িত থাকারও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে আজ (শুক্রবার) কুয়ালালামপুরে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর ‘গণহত্যা’ চলছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। এটি বন্ধে মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর হস্তক্ষেপ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর বৈষম্য ও ‘গণহত্যার’ বিষয়ে ইঙ্গিত করে মাহাথির বলেন, ‘হতে পারে এটি কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু জনগণের ওপর এমন নিষ্ঠুর অত্যাচার করার অধিকারও কোনো দেশের নেই।’
আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার পবিত্রতা সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণা পাল্টাতে হবে। আর মালয়েশিয়ার সরকারের উচিত হবে, রোহিঙ্গাদের বিষয়টি আসিয়ানে তোলা। গণহত্যা চালায়, এমন কোনো দেশ আসিয়ানের সদস্য থাকুক, আমরা তা সমর্থন করতে পারি না। এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ আমাদের করতেই হবে।’
কেবি





