আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের বাড়তি চাপ সামলাতে সদরঘাটে সংযোজন করা হচ্ছে নতুন ১৬টি লঞ্চ। এখন পর্যন্ত সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রী সংখ্যা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও ঈদের কয়েকদিন আগে যাত্রীদের উপস্থিতি বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আর এ জন্য ঈদে ঘরমুখো অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে ১৬টি নতুন লঞ্চ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও ঈদে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সদরঘাট ও লঞ্চে জোরদার করা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ঈদে সদরঘাটের লঞ্চ সার্ভিসের ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম-পরিচালক সাইফুল হক খান বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে নতুন ১৬টি লঞ্চ আসছে। ঈদের এক সপ্তাহ আগ থেকে এ লঞ্চগুলো বিভিন্ন রুটে চলাচল করবে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি নতুন লঞ্চ আসতে পারে। ঈদের পরেও বেশ কয়েকদিন লঞ্চগুলো চলবে। লঞ্চ চলাচল বাড়াতে বিশেষ সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে লঞ্চগুলো দ্রুত সময়ে ফিরে আসবে।’

১৬টি নতুন লঞ্চ আসলে এবং বিশেষ সার্ভিস চালু হলে লঞ্চের অতিরিক্ত যাত্রীবহন কমবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা বাস্তবতা। বিশেষ করে যখন গার্মেন্টস বন্ধ হবে তখন সবাই বাড়ি ফিরবে। এসময় অতিরিক্ত যাত্রী যাবেই।’

এদিকে, ঈদে যাত্রীদের চাপ কমাতে সচেষ্ট রয়েছে লঞ্চ মালিকরা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার ম্যানেজার হান্নান খান বলেন, ‘ঈদে যাত্রীর চাপ বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। এ জন্য নতুন বেশ কয়েকটি লঞ্চ আনা হচ্ছে। পাশাপাশি লঞ্চগুলো দ্রুত ফিরে আসার জন্য বিশেষ সার্ভিস চালু হবে। বর্তমানে দৈনিক ৬০-৭০টি লঞ্চ যাওয়া আসা করে। ঈদে তা ১১০-১১৫টি হবে।’

দুর্ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা থেকে মালিকরা সরে আসবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত যাত্রী থাকার কারণে কোনো দিন দুর্ঘটনা হয়নি। অতিরিক্ত যাত্রী থাকলে লঞ্চ আরও ভালো চলে।’

এছাড়া লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী কমানো ও দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চ পরিবহন কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কর্তৃপক্ষের লঞ্চ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন যাত্রীরা। তবে কোনোভাবেই যেন পুরাতন ঝুকিঁপূর্ণ লঞ্চ এনে দুর্ঘটনার সৃষ্টি করা না হয় সে জন্যও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হতে আহবান করেছেন তারা। পাশাপাশি লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী না ওঠানোর দাবিও জানিয়েছেন।

ঈদে সদরঘাট এলাকায় বরাবরই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। চুরি, ছিনতাই, পকেটমার, কুলি-যাত্রী মতবিরোধসহ নিয়মিতই নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। তবে এবার সদরঘাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিরাপত্তা জোরদার করেছে বলে জানিয়েছেন সদরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামসুল আলম।

তিনি বলেন, ‘ঈদে সদরঘাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য সদরঘাটে চার-ছয়টি স্পিড বোর্ড টহল দেবে। মাওয়া ঘাটেও চারটি স্পিড বোর্ড টহল দেবে। এ ছাড়াও টার্মিনালে র্যা ব, পুলিশ, স্কাউট, বিএনসিসি, আনসার ও কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবে। মূলত চুরি, ছিনতাইসহ অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে টার্মিনালে আমাদের নজরদারি থাকবে।’

ঢাকা, ২০ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই