সরকারের অদূরদর্শীতায় দেশের জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসের আন্তর্জাতিকীকরণ হয়েছে
জঙ্গিবাদী সন্ত্রাস মোকাবেলায় মার্কিন প্রশাসনের সাথে আঁতাত হবে দেশে ‘খাল কেটে কুমির আনার’ সামিল

আজ সকালে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক কমিটির সভায় গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলাসহ দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বলাহয় দেশে সীমাহীন রাজনৈতিক বিরোধ, বৈরীতা ও বিভাজনের সুযোগ গ্রহণ করছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মদদপুষ্ট জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠি। প্রতিশোধাত্মক এই রাজনীতি অব্যাহত থাকলে রোমহর্ষক ধর্মান্ধ সন্ত্রাসী তৎপরতা কেবল আরো পরিপুষ্টই হবে। সভার প্রস্তাবে ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করা হয় শুরু থেকেই সরকারের নীতি-নির্ধারকেরা এসব সন্ত্রাস ও হত্যাকা-কে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসাবে আখ্যায়িত করে এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় সন্ত্রাসীরা আরো উৎসাহিত হয়েছে এবং লক্ষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে তাদের ধর্মীয় সন্ত্রাসকে আন্তর্জাতিকীকরণ করতে সক্ষম হয়েছে। সরকারের অদূরদর্শীতা ও ব্যর্থতার কারণে জঙ্গিবাদি সন্ত্রাসীরা ইতিমধ্যে তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে। এসব ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর ঘাটতি ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় সরকারের অপ্রস্তুতিও ধরা পড়েছে।

রাজনৈতিক কমিটির সভায় গৃহীত আর এক প্রস্তাবে গতকাল বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের জঙ্গি সন্ত্রাস মোকাবেলায় বাংলাদেশকে কথিত সহায়তার প্রস্তাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং বলা হয় বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসের প্রধান উদ্যোক্তা ও মদদ প্রদানকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাজনৈতিক ও সামরিক আঁতাত হবে বাংলাদেশে ‘খাল কেটে কুমির আনার’ সামিল। মার্কিন প্রশাসন বহু বছর ধরে বাংলাদেশে এই ধরনের একটি পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছিল। এখন জঙ্গিবাদি সন্ত্রাস মোকাবেলায় মার্কিন প্রশাসনের ‘কারিগরি ও প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব’ যে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরী করবে এবং মার্কিনীদের তথাকথিত ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের (ওয়ার অন টেরর) কৌশলগত অংশীদার হিসাবে বাংলাদেশকে বড় ধরনের বিপদের মধ্যে ফেলে সেই আশংকার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। নিকট অতীতের অভিজ্ঞতা হচ্ছে জঙ্গি-সন্ত্রাস মোকাবেলায় সহায়তার নামে যে সমস্ত দেশে তারা ঢুকে পড়েছে সেখানে জঙ্গি সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে পুরো দেশ ল-ভ- হয়েছে এবং মার্কিনীদের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্তৃত্ব পাকাপোক্তা হয়েছে।

প্রস্তাবে মার্কিন প্রশাসনের এই ধরনের কথিত ‘সহায়তা’ প্রস্তাব থেকে দূরে থাকার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সভার প্রস্তাবে জঙ্গিবাদী সন্ত্রাস মোকাবেলায় প্রশাসনের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সর্বাত্মক উদ্যোগের পাশাপাশি এইসব সন্ত্রাসী তৎপরতা মোকাবেলায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

সেগুনবাগিচায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন পার্টির রাজনৈতিক কমিটির সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, মুকলেছুর রহমান, আবু হাসান টিপু ও আনছার আলী দুলাল।

সভায় অপর এক প্রস্তাবে জঙ্গিবাদী সন্ত্রাস প্রতিরোধে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা আহুত আগামীকাল দেশব্যাপী বিক্ষোভ সফল করার আহ্বান জানানো হয়।

জেড