বৃহস্পতিবার ঘড়ির কাটায় সময় ঠিক চারটা ছুঁইছুঁই। বলা নেই হঠাৎ প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের চার নম্বর ভবনের সামনে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। আগুন নেই, নেই অন্য কোনো দুর্ঘটনার চিহ্ন। সবকিছুই স্বাভাবিক। তাহলে ফায়ারসার্ভিস কেন?
উপস্থিত কর্মকর্তা–কর্মচারীরা হতবাক। কী হলো?- এমন প্রশ্ন সবার মনে। সেই প্রশ্নের উত্তর মিলল একটু পরেই। দেখা গেল নিমগাছের অনেক উপরের একটি ডাল জড়িয়ে ধরে আছে একটি বিড়াল। বেচারা সেখান থেকে বাঁচার জন্য ছটফট করছে। ভালো করে তাকাতেই বোঝা গেল, বিড়ালটি আসলে ডালের কোণায় আটকা পড়েছে। যে কারণে নিচে নেমে আসতে পারছে না। এর মধ্যেই উৎসুক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভিড় তৈরি হয়েছে সেই নিমগাছটি ঘিড়ে।
দমকল বাহিনীর ইন্সপেক্টর জহিরুল হকের নেতৃত্বে ১৭০ ফুট উঁচু ব্রন্টু স্কাইডি গাড়ি সেট করা হলো গাছটির সামনে। প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলল বিড়াল উদ্ধার অভিযান। এবং সেই অভিযান সফলও হলো। গাড়ির সঙ্গে লাগানো ক্রেনে করেই বিড়ালটি নিচে নামিয়ে আনা হলো।
এ সময় উদ্ধারকারীদের চোখে-মুখে দেখা দেয় আনন্দ উচ্ছ্বাস। মৃত্যুর দুয়ার থেকে বিড়ালটিও যেন বেঁচে ফিরল। তারপর বিড়ালটিকে ঘিরে উপস্থিত মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ অন্য আরেক আবেগঘন পরিবেশের জন্ম দিল। দেখা গেল, কেউ কোলে তুলে নিচ্ছে বিড়ালটি। কেউ আবার আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। এ যেনো বিড়ালের প্রতি মানুষের ভালোবাসার এক মহৎ দৃষ্টান্ত। পেটপুরে খাবারের আয়োজনও করা হলো বিড়ালের জন্য। ভাত, মাছের কাঁটা, পানি খাইয়ে সেই সচিবালয়েই ছেড়ে দেওয়া হলো বিড়ালটিকে।
বিড়ালটির প্রতি ভালোবাসার কথা জানিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী সচিবালয় দমকল ইউনিট ইনচার্জ মো. আবুল হোসেন রাইজিংবিডিকে জানান, মৃত্যুপথযাত্রী বিড়ালটির জীবন বাঁচাতে পেরে আমি খুব খুশী। শুধু মানুষ কেন পশু, পাখি, জীবজন্তু- যে কারো জীবন বাঁচানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিড়ালটির জায়গায় যদি আমার সন্তান হত তাহলে আমি কী চুপ করে থাকতে পারতাম? কখনওই না। তাই খবর পাওয়া মাত্র মনের টানে, ভালোবাসার টানেই বিড়ালটি উদ্ধার করতে ছুটে গেছি।
তিনি বলেন, বিড়ালটি উদ্ধারের পর তাকে আমি নিজের হাতে ভাত, মাছের কাঁটা, পানি খাইয়েছি। তারপর সচিবালয়ে ছেড়ে দিয়েছি। বিড়ালটি আবারো মুক্ত ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে। এ জন্য তিনি মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা জানান।
রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘দুদিন আগে সাদা রঙের মাঝবয়সী একটি বিড়াল কুকুরের তাড়া খেয়ে সচিবালয়ের চার নম্বর ভবনের সামনে অনেক উঁচু নিম গাছে উঠে পড়ে। গাছের অনেক উপরে ওঠার পর বিড়ালটি ডালে আটকা পড়ে আর নিচে নামতে পারেনি। এ অবস্থায় দুদিন না খেয়ে মরতে বসছিল।’
বৃহস্পতিবার বিকালে গাছের ওপর বিড়ালটিকে দেখতে পায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক গাড়িচালক। তিনি দেখেই উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। সচিবালয়ের ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ইনচার্জ মো. আবুল হোসেন নিজেই ঘটনাস্থলে আসেন। কিন্তু উদ্ধারের জন্য তাদের উপযুক্ত গাড়ি না থাকায় খবর দেন ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে। সেখান থেকে ইন্সপেক্টর জহিরুল হকের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী গাড়ি আসে। তারা অভিযান চালিয়ে বিড়ালটি জীবন্ত উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় সচিবালয়ে সবার প্রশংসা কুড়ায় উদ্ধারকারী দমকলবাহিনী। প্রশংসিত হন খবর প্রদানকারীও।
এআইজে





