নোয়াখালী সদর উপজেলা সার্কিট হাউজ পুর্ব সংলগ্ন জেলা শহর মাইজদীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ একরামুল কবিরের ছেলে রুবেল (৪০) জ্বর সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার সকাল ৭ টায় নিজ বাসায় মারা যায়।
জানা গেছে, সৈয়দ একরামুল কবিরের বিলাসবহুল ১০ শতাংশ জমির উপর দোতলা ডুপ্লেক্স বাসা ভবন সহ প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ ও দখল করতে ওই স্বাভাবিক মৃত্যুকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেষ্টা করছে।
এ নিয়ে নিহত রুবেলকে বিষ পানে হত্যার অভিযোগে তার বড় ভাই বাক প্রতিবন্ধী মিঠুর স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে গ্রেফতার করে শুক্রবার বিকেলে লাশ সহ থানায় নিয়ে যায়।
সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, নিহত রুবেল, রিয়াল, ডলার, মিঠু ও পলি সহ সৈয়দ একরামুল কবিরের ৪ ছেলে ১ মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে রুবেল, রিয়াল বিয়ে করেনি, ডলার এবনরমাল অবস্থায় ২০ বছর আগেই বাসা থেকে নিঁখোজ হয়ে যায়।
অপর মিঠু বাক প্রতিবন্ধী হলেও রোকেয়া বেগমকে বিয়ে করার পর তার ঘরে ২ শিশু জন্ম নিয়েছে। অন্যদিকে পলির স্বামী অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্র সচিব কামাল উদ্দিন।
গত মঙ্গলবার থেকে রুবেল জ্বর, ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সৈয়দ একরামুল কবির তার ছেলে রিয়ালকে সঙ্গে দিয়ে রুবেলকে জেলা শহর মাইজদী একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়।
চিকিৎসক রুবেলের কথা শুনে তার জ্বর ও ডায়রিয়া সহ আক্রান্ত রোগের চিকিৎসা দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ দিলে রুবেল অতিরিক্ত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে শুক্রবার সকালেই বাসাতেই মারা যায়।
এদিকে অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্র সচিব কামাল উদ্দিন তার স্ত্রী পলি সহ মাইজদী বাসাতে এসে থানায় সংবাদ দিয়ে নিহত রুবেলের লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ছুরতহাল করতে শুক্রবার বিকেলে নিয়ে যায়।
অপরদিকে রুবেলকে বিষ পানে হত্যার অভিযোগে বাক প্রতিবন্ধী মিঠু ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে পুলিশ থানায় নিয়ে মিঠুকে ছেড়ে দেয়।
রুবেলকে বিষপানে হত্যার অভিযোগে রোকেয়া বেগমকে কোর্টে প্রেরন করে শুক্রবার বিকেলেই জেলা কারাগারে প্রেরন করে।
সৈয়দ একরামুল কবির জানান, আমার ছেলে রুবেল গত ৩ দিন আগ থেকে জ্বর, ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।
গত বৃহস্পতিবার জেলা শহর মাইজদী ডাঃ সোহরাব ফারুকীর কাছে চিকিৎসা করে রাতে বাসায় এনে ঔষধ খাওয়ানোর পর শুক্রবার সকালে রুবেল বাসায় মারা যায়।
হাসপাতাল সুত্রে জানায়, রুবেলকে বিষ পানে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ করলেও ছুরতহাল করতে গেলে নির্যাতনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
তবে রুবেলের পেটের কিছু অংশ কেটে চট্রগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে বিশারায় প্রেরন করা হয়েছে।
এদিকে সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, রুবেলকে বিষ পানে হত্যার সন্দেহে তার পিতা সৈয়দ একরামুল কবির বাদী হয়ে রোকেয়া বেগমকে আসামী করে থানায় মামলা করেছে।
এসএইচ





