কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে ট্রলার বোঝাই গরু-মহিষ আসছে। গত শুক্র ও শনিবার দুদিনে শারহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে দুই হাজার ২২৮টি গবাদি পশু ঢুকেছে।
এসব পশু শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় তোলার পর পাইকারি দামে কিনে নিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছেন বেপারীরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাস থেকে আজ (৩ আগস্ট) পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭১৭টি পশু। আদায় করা হয়েছে প্রায় ৬৩ লাখ ৬০ হাজার ৫ শত টাকার রাজস্ব।
টেকনাফ শুল্ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ২৫ মে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে নাফ নদী সংলগ্ন এলাকায় চালু করা হয় একটি ক্যাটল করিডোর। এ করিডোর দিয়ে পশু আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিটি গরু-মহিষ থেকে ৫ শত ও ছাগল থেকে ২ শত টাকা হারে রাজস্ব আদায় করা হয়।
সূত্র জানায়, গত জুলাই মাসে এ করিডোর দিয়ে আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ৭৪৪টি গরু ও ৩ হাজার ৩৫১টি মহিষ। এছাড়া গত ১ ও ২ আগস্ট দু’দিনে ২ হাজার ১২টি গরু এবং ৬১০টি মহিষ আমদানি করা হয়েছে। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে আজ শনিবার (৩ আগস্ট) গরু বোঝাই কোনো ট্রলার মিয়ানমার থেকে টেকনাফে আসেনি।
টেকনাফের শুল্ক কর্মকর্তা মো. ময়েজ উদ্দীন বলেন, এ করিডোর রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। আবহাওয়া বৈরি হওয়ায় গত কয়েকদিন পশু আমদানি বন্ধ থাকার পর সোমবার থেকে পশু আসা শুরু হয়েছে।
গত একমাসে এ করিডোর দিয়ে পশু আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫০ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়াও গত দু’দিনে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
কক্সবাজারের ব্যবসায়ী আজিজ মওলা চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের গরু সাইজে ও দেখতে অনেকটা দেশীয় গরুর মতো। কিন্তু দেশীয় গরুর চেয়ে এর দাম একটু কমই থাকে। ফলে কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের গরুর চাহিদা বিশেষ। আবার মিয়ানমারের গরু বাংলাদেশের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশে বিভিন্ন পাহাড়ে ঘাস খেয়ে বড় হয়।
উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, এক সময় কক্সবাজারের টেকনাফ বন্দর হয়ে বৈধপথে গরু-মহিষ আসার পাশাপাশি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন চোরাই পথে মিয়ানমারের গরু আসত। বিশেষ করে টেকনাফের মিস্ত্রিপাড়া, নয়াপাড়া, সাবরাং, নাজিরপাড়া, জালিয়াপাড়া, উখিয়ার রেজু আমতলী, ফাঁড়িরখীল, বালুটিয়া এবং উখিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত এলাকার ঘুমধুমের তুমব্রুসহ আরও কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে অবৈধপথে মিয়ানমারের গরু আসত। এখন এসব পথে গরু আসছে না বললেই চলে। এখন নির্দিষ্ট করিডোর দিয়ে গরু আসায় সরকার পর্যাপ্ত রাজস্ব আয় করছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসাইন জানান, কোরবানির পশুর হাটে চাঁদাবাজি, জাল টাকার ব্যবহারসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের যাতে কোন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে পুলিশ নজরদারি রেখেছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে তিন মণ ওজনের একটি গরুর দাম পড়ছে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। চার মণ ওজনের গরু ৮৫ থেকে ৯৫ হাজার ও পাঁচ মণের বেশি ওজনের গরু ১ লাখ ২০ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এসব গরু চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ঢাকাসহ বিভিন্ন হাটে বিক্রি হচ্ছে ৮৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায়।
এএস





