শরীয়তপুর সদর প্রথম শ্রের্ণির পৌরসভা। তথাপি শহরের সড়ক গুলির অবস্থা খুবই খারাপ। শহরের বাসিন্দারা চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কিন্তু পৌরসভার মেয়র বেহাল রাস্তাঘাট সংস্কারে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না।  

পৌরসভার ভেতরের রাস্তাঘাট দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয় না। মেরামত না করায় রাস্তাঘাটে খানাখন্দে ভরে গেছে। রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে। তখন জনদুর্ভোগে পড়েন শহরবাসী।

১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ‘গ’ শ্রেণির শরীয়তপুর পৌরসভা বর্তমানে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্বেও শহরবাসী কাঙ্খিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।  নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডের সাথে যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১০ থেকে ১৫টি সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী।

কাগদী থেকে পাকার মাধা সড়ক, আংগারিয়া বাজার থেকে মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী হাওলাদার সড়ক, চৌরঙ্গীমোড় থেকে দীঘিরপাড় সড়ক, আংগারিয়া বাজার থেকে রাজগঞ্জ বাজার সড়ক, পাকার মাথা থেকে পাঠকবাড়ি সড়ক, শরীয়তপুর কোর্ট থেকে আটং বাজার সড়ক, তুলাসার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নিপুন ক্লিনিক পর্যন্ত সড়ক, পলিটেকনিক কলেজ থেকে মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী হাওলাদার সড়ক, কালিবাড়ি থেকে সদর উপজেলা সড়ক, আংগারিয়া কামাড়পট্টি থেকে ফলপট্টি সড়ক, স্বর্ণঘোষ থেকে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ সড়ক ও নীলকান্দি থেকে শ্যামল পালের বাড়ি পর্যন্ত সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

পৌর এলাকার বাসিন্দা শিমুল ক্ষোভের সঙ্গে জানান, কর দেই, খাজনা দেই-এই টাকা কার পেটে যায়। পৌরসভার বাইরে ইউনিয়নের রাস্তাও অনেক ভাল। তিনি বলেন, এই মেয়রের আমলে কোন উন্নয়ন কাজ হয়নি।

কাগদীর বাজারের ব্যবসায়ী আলী আকবর মুন্সী জানান, ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দিয়ে ২০ টাকার ভাড়া ৬০ টাকা দিলেও রিকশা যেতে চায় না। তাই চলাচলে বিপাকে পড়ছেন শহরবাসী।

রিকশা চালক ফজলুল হক বলেন, ভাঙ্গা রাস্তায় চলতে গিয়ে রিকশার চাকা বাঁকা এবং স্পোক ভেঙ্গে যায়। তাই রাস্তায় চলাচল খুব ঝুঁকিপূর্ণ।

শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র আবদুর রব মুন্সী বলেন, যে রাস্তাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা  মেরামতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলি মেরামত করা হবে বলে জানান তিনি।

জেআই