বৈশাখের প্রথম দিনে মঙ্গল শোভাযাত্রা কোনো মুসলমানের পালনীয় উৎসব হতে পারে না বলে মনে করে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, এটি সমাজ ধারণার বিরোধী এবং বিভাজনের প্রতীক। মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের ঈমান ও আকীদার পরিপন্থী।

তিনি আরো বলেন, ‘ওয়ার অন টেরর’ প্রজেক্টের অংশ হিসেবে মুসলমান সম্প্রদায়কে হেয় ও সন্ত্রাসী বলে উপস্থাপনের যে রাজনৈতিক প্রকল্প ঢাকার চারুকলা তৈরি করেছে, সেই মঙ্গল শোভাযাত্রাকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিস্তৃত করার সরকারি নির্দেশের তীব্র নিন্দা জানাই।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো দলের এক বিবৃতিতে হেফাজত মহাসচিব এসব কথা বলেন। মঙ্গল শোভাযাত্রা সাম্প্রতিক ধর্মনিরপেক্ষ আবিষ্কার এবং এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মাওলানা মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘দেশের আলেম সমাজ ও সাধারণ মুসলমানরা মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন। এই শোভাযাত্রায় ইসলামি পোশাক এবং দাড়ি-টুপিধারী মুসলমানদের কখনও দানব, আবার কখনও রাক্ষস বা কীট হিসেবে তুলে ধরা হয়ে থাকে। এই শোভাযাত্রা থেকে মূলত ইসলামি পোশাক, রাসূল (সা.)-এর সুন্নত দাড়ি-টুপিধারী মুসলমানদের নির্মূল করার বাণী প্রচার হয়ে থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রতীকায়ন বুশ-ব্লেয়ারের ওয়ার অন টেরর প্রকল্পের অংশ। এর মাধ্যমে সারাবিশ্বে মুসলমান সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসী ও দানব হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা চলে।’

মাওলানা মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘কোনো উৎসব পালনের জন্য কাউকে বাধ্য করা যায় না। বাধ্য করা হলে সেটা আর উৎসব থাকে না। তাছাড়া পহেলা বৈশাখ আমাদের কোনো জাতীয় দিবস নয় যে, সরকারি অর্থ সেখানে ব্যয় করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এই শোভাযাত্রা রাজনৈতিক প্রকল্প হয়ে ওঠার কারণে দেশের সর্বসাধারণের কাছে স্বীকৃতি বা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। সমাজে বিভাজন সৃষ্টি ও মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা ছড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হওয়ার কারণে তা কখনোই সামাজিক উৎসবের মর্যাদা পায়নি। তাই মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বাধ্যতামূলক করা এই বিভাজনের রাজনীতিকে আরো তৃণমূলে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা বলে আমরা মনে করি।’

ব্রিটিশদের ইংরেজি নববর্ষ পালন করতে দেখে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের চিন্তার উদ্ভব মন্তব্য করে হেফাজত মহাসচিব বলেন, ‘বাংলার মুসলিম ঐতিহ্যের কথা বাদ দিলেও ঐতিহ্যগতভাবে এই ধর্মনিরপেক্ষরা যে আবহমান হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির কথা বলে মুখে ফেনা তোলেন, সেই সংস্কৃতিতেও মঙ্গল শোভাযাত্রা কখনো ছিল না। এমনকি পহেলা বৈশাখও ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় চক্রাকারে আবর্তন করে। একটা চক্রের আবর্তন শেষ হলে আবার নতুন আবর্তন শুরু হয়। আমাদের সময় একরৈখিক নয়, চক্রাকার। তাই বছরের প্রথম দিন আমাদের জন্য কোনো আলাদা গুরুত্ব বহন করে না।’

এমই