বাংলাদেশে বহু মাদ্রাসা রয়েছে যেগুলো আবাসিক, শিশুরা দিবা-রাত্রি মাদ্রাসাতেই অবস্থান করে এবং শিক্ষকের অধীনে থেকে ধর্মীয় পাঠ নেয়। ছবিতে ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় শ্রেণীকক্ষের একাংশ।

বাংলাদেশের ফেনী শহরের এক মাদ্রাসা ছাত্রকে ওই মাদ্রাসারই এক শিক্ষক ফ্যানে ঝুলিয়ে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ বলছে, ছেলেটি ছুটি নিয়ে বাড়ি যেতে চাইলে মাদ্রাসার শিক্ষকেরা তাকে ছুটি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এক পর্যায়ে ছেলেটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শিক্ষক মোশাররফ হোসেনের হাতে ধরা পড়ে সে।

পড়ে ওই শিক্ষক আনুমানিক ১২ বছর বয়েসী ওই ছাত্রটিকে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প ও ব্যাট দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করতে শুরু করে।শুক্রবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।

ছেলের বরাত দিয়ে তার বাবা বিবিসিকে বলেন, “ও মাইর খাই প্রথমে বাথরুমে ঢুকি গেছিল। বাথরুম থেকে আবার ছেলেপেলে দিয়ে বাইর কইরা আইন আবার ফ্যানের সাথে ঝুলাইছে। ঝুলাই তারপর আবার নির্যাতন”।

এক পর্যায়ে ছেলেটি অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে কেউ হাসপাতালে নিয়ে যায়নি, বলছিলেন ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহীনুজ্জামান।

শনিবার ছেলেটির বাবা ছেলেটিকে দেখতে মাদ্রাসায় গেলে তাকে আহত অবস্থায় আবিষ্কার করেন এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।তার পুরো শরীরেই নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে বলে জানাচ্ছেন ছেলেটির বাবা।

“পিঠে আছে। দোনো হাতে আছে। রানে আছে, দোনো রানে। আঘাতগুলা শুকানো অনেক সময়ের কাজ। পাঁচ ছমাসেও ক্লিয়ার হবে কিনা সন্দেহ”।এ ঘটনায় আজ থানায় একটি মামলা হয়েছে।

মামলা হওয়ার পর পুলিশ মাদ্রাসাটিতে অভিযান চালায়, কিন্তু অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন আগেই পালিয়ে যান।

আহত ছাত্রটিকে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেকোনো শিক্ষার্থীকেই মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা আইনত দণ্ডযোগ্য অপরাধ। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এসটি