দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে  কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে।এবারের ঈদুল আজহার জামাতটি ছিল শোলাকিয়ায় ১৮৭তম ঈদের জামাত।

সোমবার সকাল ৯টায় ঈদুল আজহার এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

ঈদুল ফিতরের তুলনায় এ জামাতে লোক সমাগম কম হলেও প্রায় লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন বলে জানিয়েছেন ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস এম আলম।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুসল্লিরাও শোলাকিয়া ময়দানে নামাজ আদায় করেছেন। জামাতে জেলা প্রশাসকসহ সর্বস্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও এ মাঠে নামাজ আদায় করেন জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইলেকট্রনিক্স, অনলাইন মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও অসংখ্য সাধারণ মুসল্লি এ জামাতে অংশগ্রহণ করেন।

নামাজ শেষে মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, ‘ডাক, টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন সেটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।

’ এ ছাড়াও রাষ্ট্রপতিসহ যে সকল মুসলমান হজ করতে গিয়েছেন তারা যেন সুস্থভাবে দেশে ফিরে আসতে পারেন সেই দোয়া করেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও  অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যও বিশেষ দোয়া পাঠ হয়।

এদিকে পৃথকভাবে নারীদের জন্য একটি বিরাট জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জ এস ভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ।ঈদ জামাতকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুসল্লিদের সুবিধার্থে এবারো ভৈরব এবং ময়মনসিংহ থেকে দুটি স্পেশাল ট্রেন সকাল ৬টায় ছেড়ে আসে।

মুসল্লিদের জনশ্রুতি আছে, এ মাঠে পরপর তিনটি ঈদের জামাত আদায় করলে এক কবুল হজের সওয়াব পাওয়া যায়। সে জন্য শোলাকিয়া মাঠ গরিবের মক্কা নামে পরিচিত। ঈশা খাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খান কিশোরগঞ্জের জমিদারি প্রতিষ্ঠার পর ইংরেজি ১৮২৮ সনে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ৭ একর জমির উপর এই ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন।

শোলাকিয়ায় প্রথম অনুষ্ঠিত জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন বলে মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখি মাঠ’। সেখান থেকে উচ্চারণের বিবর্তনে নাম ধারণ করেছে আজকের ‘শোলাকিয়া মাঠে’। প্রতি বছরই এ সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদহ এবং যে জামাতে মুসল্লি যত বেশি হয়, সওয়াবও তত বেশি হয় এবং গোনাহ মাফ হয়। এই বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা শোলাকিয়ায় নামাজ পড়তে আসেন।

প্রায় দুই শ বছরের পুরোনো শোলাকিয়া ঈদগাহটি ঐতিহ্যের তুলনায় উন্নয়ন ও সংস্কারের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে। শোলাকিয়া ঈদগাহকে শোলাকিয়া আন্তর্জাতিক ঈদগাহ নামকরণ ও মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাঠের পরিসর বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিনের।

শোলাকিয়ায় ঈদ জামাত উপলক্ষে প্রতিবারের মত এবারো ঈদগাহ সংলগ্ন মাঠ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে ঈদমেলা বসেছিল। স্থানে স্থানে নির্মিত হয় তোরণ, রাস্তার দুপাশে টাঙানো হয় রংবেরঙের পতাকা ও ব্যানার। জামাতের আগে-পরে শহর হয়ে ওঠে লোকারণ্য ও উৎসবমুখর।

কেএ