রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ হবিবুর রহমান আবাসিক হলে কোন প্রকার সিট বরাদ্দ ছাড়াই অবৈধ ভাবে ১০৪টি সিট নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়েছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

সদ্য নির্মিত ওই হলের প্রথম ব্লকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার গোটা কক্ষগুলো দখল নিয়ে তালাবদ্ধ করে রেখেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। দুই সিট বিশিষ্ট অধিকাংশ এসব কক্ষে কিছু বহিরাগত ছাত্রলীগের কর্মীও থাকছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ছাত্রলীগের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ওই হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে।

এ বিষয়ে শহীদ হাবিবুর রহমান হল প্রাধ্যক্ষ ড. এস এম একরাম উল্যাহ বলেন, কতিপয় সংগঠনের নেতাকর্মী এবং কিছু সাধারণ শিক্ষার্থী হলের কক্ষগুলোয় তালা ঝুলিয়েছে। আমি আজ (গতকাল মঙ্গলবার) ওই কক্ষগুলোয় বরাদ্দের জন্য নোটিশ দিয়েছি। এই সপ্তাহের মধ্যে ওই সব কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা কক্ষগুলো ত্যাগ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

হবিবুর রহমান হল সূত্রে জানা যায়, ওই হলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্লকে ৮টি কক্ষে অবৈধ ভাবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দখল করে আছেন। কক্ষগুলো হলো-২২০, ২২১, ২২২, ২৩৮, ২৩৯, ২৪১, ৩২০ এবং ৩৪২। চার সিটি বিশিষ্ট এসব কক্ষে ছাত্রলীগের ২/৩ জনের বেশী নেতাকর্মী থাকেন না। গত জুন মাসে হলের প্রথম ব্লকের দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ তলার কাজ সম্পূর্ণ হয়।

সদ্য নির্মিত ওই ব্লগের দুই তলার ২০১ থেকে ২১৮ এবং তিন তলার ৩০১ থেকে ৩১৮ পর্যন্ত মোট ৩৬টি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে দলীয়কর্মীরা। ছাত্রলীগ কর্মী মামুনের নেতৃত্বে গত রবি এবং সোমবার রাতে কক্ষগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে দুই তলার ৭টি কক্ষে ছাত্রলীগের কর্মীরা উঠেছেন। আর দলীয় কর্মী সংকটের কারণে অন্যান্য কক্ষগুলোতে কাউকে উঠাতে না পেরে তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন বলে ওই হলের নির্ভযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, দখলকৃত ওই সব সিটে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদেরকে রাখা হচ্ছে। ওই হলে অনেক বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মীরাও থাকছেন। অবৈধ ভাবে প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্ররা দুই সিট বিশিষ্ট কক্ষে থাকছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হলে মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হল প্রাধ্যক্ষের দূর্বলতার কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হলে সিট বানিজ্য থেকে শুরু করে সকল প্রকার অনৈতিক কর্মকা- করছে। তিনি বলেন, আমার পড়া-লেখা শেষের দিকে। বারবার দুই সিটের জন্য দরখাস্ত করা সত্ত্বেও সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সিট দখলের কারণে আমাদের সিট দেওয়া হচ্ছে না।

শুধু হবিবুর রহমান নয় ছাত্রদের জন্য বরাদ্দকৃত আবাসিক হলের প্রায় সবগুলোরই একই চিত্র। ছাত্রদের ১১টি হলে প্রায় চার শতাধিক সিট অবৈধভাবে নিজেদের দখলে রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। দলীয়কর্মী সংকটের কারণে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা অধিকাংশ কক্ষ এখন শূণ্য পড়ে আছে।

কয়েকটি কক্ষে ছাত্রলীগের বেশকিছু বহিরাগত নেতাকর্মী থাকছেন বলে জানা গেছে। হল গুলোতে নতুন করে শুরু হয়েছে সিট বাণিজ্য। এতে করে চরম দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এসব ব্যাপারে অভিযোগ করলেও অপারগতা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ঠ কর্তপক্ষ।

বৈধভাবে বরাদ্দ না নিয়ে সিট দখলে রাখার কারণে প্রতিমাসে অন্তত ৪০ হাজার টাকা সিট ভাড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হল প্রশাসন। এদিকে প্রশাসন থেকে হলে সিট বরাদ্দ দিতে গিয়েও ছাত্রলীগের চাহিদা মতো কক্ষ দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি ঠিক ভাবে আমার জানা নেই। তবে হলের নিরাপত্তার সাথে তারা কক্ষগুলোতে তালা ঝুলাতে পারে। হল প্রশাসন চাইলেই তারা তালা খুলে দেবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে একই ধরণের মন্তব্য করেন রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল হোসেন তুহিন।

ঢাকা, ১২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ