গফুর হালীর ১০টি গানও যদি মানুষের মনে টিকে থাকে তিনি কালকে জয় করবেন উল্লেখ করে খ্যাতিমান সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন বলেছেন, ঈশ্বরের প্রেম, মানবতার জয়গান, ভালোবাসার কথাই গফুর হালীর গানের মূল উপজীব্য। এগুলো রক্ষা করার ভার সবার ওপর।

চাটগাঁইয়া গানের কিংবদন্তি আবদুল গফুর হালীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রোববার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে সুফি মিজান ফাউন্ডেশন ও পিএইচপি ফ্যামিলি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে গফুর হালীর গানের স্বরলিপিকার আবদুর রহিম, কাবেরী সেনগুপ্তা, সৈয়দুল হক ও স্বর্ণময় চক্রবর্তী, শিল্পী কল্যাণী ঘোষ, গফুর হালীকে নিয়ে প্রথম ডকুমেন্টারি নির্মাতা শৈবাল চৌধুরীকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

ড. সেন বলেন, গফুর হালী মুখ্যত সহজাত কবি, সংগীত শিল্পী। তিনি গ্রামবাংলা থেকে উঠে এসেছেন। আমাদের মূল প্রাণ গ্রামে। সাধারণ মানুষের কাছে। উন্নত দেশে গ্রাম নেই। সেখানে আছে কান্ট্রি সাইড। ভারত বর্ষে ছয় লাখ গ্রাম আছে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে কবি-সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, সংগীত জাতি-ধর্ম-সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে গুরুত্ব দেয়। নাগরিক জীবন কৃত্রিম। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও আরোপিত। পরীক্ষা কেন্দ্রিক শিক্ষা।আমি মনে করি সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধিতা তৈরি করছে নাগরিক জীবন ও শিক্ষা।

বাংলা একাডেমির সহকারী পরিচালক ড. সাইমন জাকারিয়া বলেন, গফুর হালীর বাড়িতে তিন দিন থাকার সুযোগ হয়েছিল। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় টিন বাজিয়ে গান গেয়ে মানুষকে যুদ্ধে উদ্দীপ্ত করতেন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাকে জনপ্রিয় করেছিলেন গানের মাধ্যমে।

আবদুল গফুর হালী একাডেমির পৃষ্ঠপোষক ও পিএইচপি ফ্যামিলির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনওয়ারুল হক গফুর হালীর একটি সম্প্রীতির গান গেয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে।

আবদুল গফুর হালী একাডেমির সেক্রেটারি ও লোকসংগীত গবেষক নাসির উদ্দিন হায়দার বলেন, গফুর হালীর মূল্যায়ন বিদেশে হলেও দেশে যথেষ্ট হয়নি। তিনি পদক, সম্মাননা, সংবর্ধনার জন্য লালায়িত ছিলেন না। চট্টগ্রামের কোনো শিল্পীর গানের স্বরলিপির বই নেই, শুধু গফুর হালীর ৪০০ গানের স্বরলিপির বই আছে। এ গানগুলো কখনো হারাবে না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গফুর হালী একাডেমির ভাইস চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল মোস্তফা। সবশেষে গফুর হালীর গান করেন জনপ্রিয় শিল্পীরা। এছাড়া 'দিওয়ানে মাইজভাণ্ডারী' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা।

মাসুম