রাজধানীর বাংলা মোটরের পান্থকুঞ্জ পার্কের একাংশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের স্থায়ী ময়লা স্থানান্তর কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতিপত্র বাতিলের সুপারিশ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিষয়ক কমিটি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বলছে তারা এখনো এ ধরনের কোন সুপারিশের কথা জানেন না।

রাজধানীর ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, বাংলামোটর এলাকার মানুষের একটু নি:শ্বাস ফেলার জায়গা পান্থকুঞ্জ পার্ক। কিন্তু সেখানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পার্ক সংলগ্ন জায়গায় স্থায়ী ময়লা স্থানান্তর কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে।

পার্কের পাশে স্থায়ী ময়লা স্থানান্তর কেন্দ্র স্থাপন করা হলে, পুরো এলাকা জুড়ে ছড়াবে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ, অনুপযোগী হয়ে উঠবে ঘনবসতিপূর্ণ জায়গায় মানুষের বসবাস। সেজন্য পান্থকুঞ্জ পার্কটির মৃত্যু ঠেকাতে বিরামহীন লড়াই করেছেন পার্ক সংলগ্ন এলাকার লোকজন।

একজন এলাকাবাসী বলেন, 'তারা টিনের বেড়া দিয়ে এর মধ্যের প্রায় ১০০ গাছ কেটে ফেললো। যেগুলো রোপণ করেছিল এলাকাবাসী।'

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতিপত্র নিয়েই ময়লা স্থানান্তর কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করেছেন তারা। তবে ছাড়পত্র বাতিলের কোন কাগজ এখনো হাতে পায়নি সংস্থাটি।

ডিসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনছার আলী খান বলেন, 'আমরা ৩০-৪-২০১৪ তারিখের লিখিত ছাড়পত্রের ভিত্তিতেই আমাদের কাজ করছি। এ বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা সম্ভব।'

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২১/০৯/১৪ তারিখে আরবান পাবলিক এন্ড হেলথ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় স্থায়ী ময়লা স্থানান্তর কেন্দ্র স্থাপনের জন্য দেয়া অনুমিত পত্র বাতিলের সুপারিশ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিষয়ক কমিটি।

কমিটির সভায় জানানো হয়, পুরাতন সীমানার বাইরে বিদ্যমান পার্কের কোন গাছপালা কোনক্রমেই কাটা যাবে না বা পার্কের সীমানা ব্যবহার করে কোন স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ কোন ভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না।

এদিকে, পার্ককে ক্ষতিগ্রস্ত না করার আন্দোলনে স্থানীয় মানুষের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠনও।

বেলা নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, 'আমাদের নগর প্রশাসন একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। আমাদের আমলাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এভাবে চলতে থাকলে অবশ্যই এ ধরণের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত হতেই থাকবে। কেন একে বেআইনি বলা হবে না তার ব্যাখ্যা চাইতে আমরা আদালতে যাবো।'

নগরবাসীর প্রবেশ, বিনোদন বেড়ানোর ও শিশুদের খেলাধুলার জন্য পার্কটিকে অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে খুলে দেয়ার দাবি করেছে এলাকাবাসী।

ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই