নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুরে আদম ব্যাপারী কৃষ্ণ কর্মকারের প্রতারণায় পথে বসেছে ১০টি পরিবার।

নিজের শেষ সম্বল হালের গরু, পোষা গাভী আর ফসলী জমি লিজ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতে তুলে দিয়ে দুই বছর পিছনে ঘুরে ঘুরে যাওয়া হয়নী তাদের স্বপ্ন পুরুনের দেশ ব্রুনাই।

বিদেশ পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা গ্রহন করে ফেরত না দেওয়ার পরও কৃষ্ণ কর্মকার মনে করছেন তিনি সংখ্যালঘু হওয়ায় তার কিছুই করতে পারবে কেউ।

সরেজমিন লালপুর উপজেলার আব্দুলপুরে গিয়ে জানা যায়, আদম ব্যাপারী কৃষ্ণ কর্মকার এক সময় ব্রুনাই থাকতেন।

দেশে এসে গত কয়েক বছর থেকে এলাকার বেকার যুবকদের কম টাকায় ভাল চাকুরী দেয়ার কথা বলে একের পর এক টাকা নিচ্ছেন। তিন লাখ টাকা করে প্রতিজনের কাছ থেকে নিয়ে তাদেরকে এক সাথে নৌকায় স্বপ্ন পুরুনের দেশ ব্রুনাইতে পাঠাবেন।

গত দুই বছর আগে আব্দুলপুরের সবদের আলীর ছেলে আব্দুল মালেক ও শাহপাড়ার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আয়নাল হক তার কাছে তিন লাখ করে টাকা জমা দেন।

শাহপাড়ার আজগর আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন দুই লাখ ৬২ হাজার ও সেলিম দুই লাখ টাকা জমা দেন, ওসমান শাহর ছেলে রায়হান ও বাক্কার শেখের ছেলে আব্দুল হাকিম দেন এক লাখ ২০ হাজার টাকা করে, আইয়ুব আলী দেন এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ও বাগাতিপাড়ার জয়ন্তীপুরের খোরশেদ আলম দেন এক লাখ ৫০ হাজার টাকা কিন্তু এদের কাউকে কৃষ্ণ কর্মকার বিদেশ পাঠায়নি।

এদের অনেককে দেয়া হয় ভুঁয়া ভিসা। প্রতারিতদের মধ্যে দরিদ্র পরিবারের সন্তান জুয়েল নিজের শেষ সম্বল দুটি গাভী বিক্রি আর ৩৪ শতক ফসলি জমি লিজ দিয়ে তুলে দিয়েছিলেন তিন লাখ টাকা।

দীর্ঘদিন হয়রানীর ফলে সে বিদেশ যেতে না চাইলে তাকে কৃষ্ণ কর্মকারের স্ত্রী শংকরী রাণী ইসলামী ব্যাংক ঈশ্বরদী শাখার দেড় লাখ টাকার একটি চেক দেন সেখানে গিয়ে দেখা যায় তার একাউন্টে কোন টাকা নেই। বাঁকী দেড় লাখ টাকার জন্য স্ট্যাম্পে লিখে দিয়েছেন কৃষ্ণ কর্মকার।

আলমগীর হোসেন এবং তার বড় বাই সেলিমও জুয়েলের মতোই নিজেদের শেষ সম্বল দুটি গাভী বিক্রি আর সকল ফসলি জমি লিজ দিয়ে তুলে দিয়েছিলেন নগদ টাকা।

আর যুবক রায়হান টাকা দিয়েছিল সমিতি থেকে সাপ্তাহিক কিস্তিতে লোন নিয়ে। এখন এসব পরিবারের সংসারের চাকা যেন আর ঘুরতে চাইছে না।

শিশু বাচ্চা আর নারীসহ পরিবারের বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে পার হচ্ছে তাদের দিন।

এ সব বিষয় নিয়ে গ্রামের কোন প্রধান কথা বলতে আসলে কৃষ্ণ কর্মকার সোজাসুজি বলে দেন তিনি সংখ্যালঘু তাই এখন কেউ তার কিছুই করতে পারবে না।

কেউ বেশি চাপাচাপি করলে আদালতে তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। প্রতারিতরাও তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে শুরু করেছেন।

এ সব বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য আদম ব্যাপারী কৃষ্ণ কর্মকারের বাড়ি গিয়ে জানা যায় তিনি ঢাকায় আছেন।

পরে তার স্ত্রী শংকরী রাণী বলেন, ইতোমধ্যে তার স্বামী ২২জনকে ব্রুনাই পাঠিয়েছে। কয়েকজন যাবে না বলে টাকা ফেরত চেয়ে ঝামেলা করছে তবে নৌকা না বিমান কিভাবে তার স্বামী বিদেশ পাঠায় তা তার জানা নেই। তবে বৈধ ভাবে পাঠায় বলেই তিনি শুনেছেন।

লালপুর থানার ওসি আব্দুল হাই তালুকদার জানান, এ সব বিষয় নিয়ে কেউ মামলা করলে তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

এসএইচ