হরতাল আর অবরোধে দেশের অন্যতম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে ব্যবসায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে। কেনাবেচা বন্ধ থাকায় সারা দেশে উৎপাদিত চাল সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন সারা দেশে টানা হরতাল আর অবরোধের কারণে এই মোকামে উৎপাদিত প্রায় দেড় হাজার টন চাল সররাহ বন্ধ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা চাল কিনতে এসেও আটকে গেছেন। আর এসব কারণে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা দেশের চালের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

ফ্রেশ এ্যাগ্রোর স্বত্বাধিকারী ওমর ফারুক জানিয়েছেন, হরতাল-অবরোধ আমাদের ব্যবসাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিদিন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ চাল সরবরাহ করা হলেও হরতাল কিংবা অবরোধের কারণে তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যাপারীরাও আটকে গেছে। আর এসব কারণে দেশে চালের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

ঢাকার লালবাগ থেকে আসা ব্যাপারী আল আমীন রাইস এজেন্সির মালিক আনিছুর রহমান বলেন, গত পাঁচদিন ধরে হরতাল অবরোধের কারণে আটকে আছি খাজানগরে। ট্রাকে চাল লোড দিয়ে তা ঢাকায় পৌঁছতে পারছি না। এমতাবস্থায় ব্যবসায়ে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে চালের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

একই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের এম কে রাইস এজেন্সির মালিক তৈয়বুর রহমান, টঙ্গীর ইসমাইল রাইস এজেন্সির মালিক বিমল দাস।

জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মজিদ বাবুল জানিয়েছেন, ঘন ঘন হরতাল আর অবরোধে জেলার প্রায় ৬০০ মিলার চরম বেকায়দায় রয়েছে। উচ্চ হারে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করলেও হরতাল অবরোধে পুজি হারানোর অবস্থা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া ছাড়া কোনো পথ থাকবেনা।
জেআই