ঢাকার ধামরাইয়ে প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে খেলার মাঠে ধান চাষ করার অভিযোগ উঠেছে। ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম কাজীম উদ্দিন খান। তিনি রোয়াইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। 


খেলার মাঠে ধানচাষ করায় এবার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মোখলেসুর রহমান স্মৃতি ফুটবল কাপ টুর্নামেন্টে মাঠে গড়ায়নি। অথচ দীর্ঘদিন ধরে প্রতি বছরই মুক্তিযোদ্ধা মোখলেসুর রহমানের স্মরণে এখানে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন হতো।

খেলার মাঠ দখলের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা খেলার মাঠটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিবদমান ওই দুই গ্রুপের মাঝে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী জানান, খেলার মাঠটি ‘বহুতকুল সাধারন পাঠাগার’র নামে রেজিস্ট্রিকৃত। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কাজীম উদ্দিন খানের কাছ থেকে মাঠটি দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, শুধু খেলার মাঠটিই দখলে নেননি কাজীম উদ্দিন। তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিও দখল করে নিয়েছেন। মাঠটি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেই মামলা হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের বহুতকুল গ্রামের সাধারন পাঠাগারের নামে সদস্যদের চাঁদায় আগরোয়াইল মৌজায় ৫২ শতাংশ জমি কেনা হয়। এরমধ্যে ৬ শতাংশ জমির ওপর পাঠাগারের ঘর উত্তোলন করা হয়। বাকি জমি প্রায় ৩০ বছর ধরে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় দুই মাস আগে ওই খেলার মাঠে ব্যুরো ধান চাষ করেন কাজিম উদ্দিন খান।

বহুতকুল সাধারন পাঠাগারের সদস্য হাবিবুর রহমান ও আবু হানিফ জানান, 'মাঠটি দখল মুক্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি। এখন মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে।'

এলাকার জাফর ইকবাল, জহির, টিটুসহ কয়েকজন যুবক জানান, 'মাঠের অভাবে এখন আমরা খেলাধুলা করতে পারছি না। তাই প্রশাসনের কাছে মাঠটি দখলমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।'

ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষক বহুতকুল গ্রামের সাইদুজ্জামান খান জানান, এ মাঠকে কেন্দ্র করেই তার পরিবারের কয়েক সদস্যর নামে হয়রানিমূলক জিডি করেছেন কাজীম চেয়ারম্যান।

বহুতকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি খবির উদ্দিন জানান, বহুতকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রিকৃত ৬ শতাংশ জমিও দখল করে নিয়েছে কাজিম উদ্দিন খান। জমিটুকু ছেড়ে দিতে বারবার বলা হলেও তিনি কর্ণপাত করছেন না।

বহুতকুল গ্রামের আমির উদ্দিন (৬০) জানান, 'এ মাঠে আমিও বল খেলেছি। মাঠটিতে ধান চাষ করায় স্থানীয় যুবকরা খেলাধূলা করতে না পারছে না। খেলাধুলার জায়গা না পেলে যুবসমাজ বিপথগামী হয়ে পড়বে।'

এ বিষয়ে কাজিম উদ্দিন খান বলেন, 'বহুতকুল সাধারন পাঠাগার উন্নয়নে কোন সদস্য চাঁদা দেয় না। পাঠাগার মেরামতে কোন উদ্যোগ নেই। তাই মাঠে খেলাধূলা করার যোগ্যতাও তাদের নেই। তাই মাঠটি দখল করে নিয়েছি।'

সূত্র: যুগান্তর

জারিফ