স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ২৪ ঘণ্টার রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌছেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। তার সঙ্গে ৫০ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও রয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ বিমান শনিবার দুপুর পৌনে ১টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।
এরপর শিনজো আবে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবে। বৈঠক শেষে একটি যৌথ ইশতেহারে স্বাক্ষর করারও কথা রয়েছে তাদের।
শিনজো আবের প্রতিনিধিদলের মধ্যে তোশিবা, মিৎসুবিশিসহ জাপানের বড় কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন বলেও জানা গেছে।
একই দিন সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ হোটেল সোনারগাঁওয়ে শিনজো আবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও তার সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। শিনজো আবে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাতে হোটেল সোনারগাঁওয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেছেন।
এর আগেবাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামের একটি সভায় বক্তব্য দেবেন শিনজো আবে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ড, শিল্প ও বণিক সমিতির ফোডারেশন (এফবিসিসিআই) এবং জাপান বহির্বাণিজ্য সংস্থা (জেটরো) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করেছে। এতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণও বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করবেন। এর পরই শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবেন। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তাকে বিদায় জানাবেন।
এ সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের এ সফর বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারায় জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক জাপান সফরের সময় স্বাক্ষরিত যৌথ ইশতেহারে উল্লেখিত উন্নয়নমূলক বৃহৎ প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা পুনর্ব্যক্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের সময় স্বাক্ষরিত যৌথ ইশতেহার অনুযায়ী এসব প্রকল্পসহ অন্যান্য প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতোমধ্যে জাপানি ওডিএ পলিসি ডায়ালগ মিশনের সাথে বাংলাদেশের আলোচনা হয়েছে। এ সফরে ওই আলোচনার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হবে।
এর আগে গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের সময় বাংলাদেশ কয়েকটি প্রকল্পকে অগ্রাধিকার হিসাবে চিহ্নিত করেছিল। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণ, যমুনা নদীর তলদেশে বহুমুখী ট্যানেল নির্মাণ, যমুনা সেতুর সমান্তরালে একটি রেল সেতু নির্মাণ, ঢাকা ইস্টার্ন বাইপাস নির্মাণ এবং ঢাকার চারটি নদী পুনরুদ্ধার।
এছাড়া জাপান আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশকে সহজ শর্তে ছয়শ’ কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে।
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





