বকেয়া মজুরি, পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দসহ ৫ দফা দাবিতে খুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা ফের সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন।
খুলনা জেলা প্রশাসনকে শ্রমিক নেতাদের দেওয়া ৩ দিনের আল্টিমেটামে কোনো সমাধান না হওয়ায় অবশেষে মিল ধর্মঘটের পাশাপশি সোমবার ভোর ৬টা থেকে লাগাতার সড়ক-রেলপথ অবরোধ শুরু করেছেন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে পাটকলে মিল ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।
নগরীর খালিশপুর নতুন রাস্তার মোড় ও আটরা গিলাতলা শিল্পাঞ্চল ও যশোরের রাজঘাটে রাষ্ট্রায়ত্ব জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করছেন রাষ্ট্রায়ত্ব ৭ জুট মিল শ্রমিকরা।
মিলগুলো হচ্ছে- খুলনার খালিশপুরের প্লাটিনাম, ক্রিসেন্ট, দিঘলিয়ার স্টার জুটমিল, আটরা শিল্প এলাকার ইস্টার্ন ও আলিম জুট মিল, যশোর অভয়নগর রাজঘাট শিল্পাঞ্চলের যশোর জুট মিল ও কার্পেটিং জুট মিল।
কর্মসূচি চলাকালে এসব এলাকার সড়কে ব্যাপক জানযট তৈরি হয়েছে। বন্ধ রয়েছে রেল যোগাযোগ।
শ্রমিক নেতারা জানান, রোববারের মধ্যে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সুষ্ঠু কোনো সমাধান না হওয়ায় সোমবার থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত লাগাতার রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোর ৬টা থেকে সড়ক-রেলপথ অবরোধ করেছেন শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব জুটমিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুরোধে গত বৃহস্পতিবার থেকে তিনদিনের জন্য সড়ক ও রেলপথ অবরোধ স্থগিত করা হয়েছে। রোববারের মধ্যে দাবির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় সোমবার থেকে আবারও রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ অবরোধ চলবে।
এদিকে ধর্মঘট, অবরোধ, আর্তনাদ করে দাবি আদায় না হওয়ায় খুলনার পাটকল শ্রমিকরা ক্রমান্বয়ে ফুঁসে উঠছেন। ৭ মিলের প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখায় ৭ দিনে খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব ছয়টি জুটমিলের প্রায় ১ হাজার মেট্রিকটন পাটপণ্য উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বিজেএমসি।
পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়, পে-কমিশনের ন্যায় অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্পে শ্রমিকদের জন্য মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন, ১ জুলাই ২০১৩ ঘোষিত ২০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান ও খালিশপুর, দৌলতপুর, জাতীয়, কর্ণফুলী জুট মিলের শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ ও সব পাওনা পরিশোধের দাবি আদায়ে খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব সাত পাটকলে অনির্দিষ্টালের ধর্মঘট গত ৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়। সে থেকে এসব মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন আন্দোলনে থাকা ৩৫ হাজার শ্রমিক।
এইচ ই





