নড়াইলে বিদেশি গাছের আড়ালে বিলীন হতে চলেছে দেশীয় বিভিন্ন জাতের গাছপালা। নড়াইলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে আশংকাজনক হারে। এছাড়া বিদেশি ওই গাছের পাতা ও কাণ্ড থেকে নির্গত বাতাস প্রাণিকুলের জন্য ক্ষতিকর বলে জানা গেছে।

ফলে পশু পাখিও ওই গাছের বাগানের ভেতর থাকতে পারছে না। ক্ষতিকর এ গাছের বাগানের আশপাশে থাকা বিভিন্ন ফুল ফলের গাছ ক্রমান্বয়ে নির্জিব হয়ে তা হয় মরে যাচ্ছে, না হয় পাতা পড়ে গিয়ে কোনরকম বেঁচে আছে। গাছগুলো শিকড়ের মাধ্যমে মাটি থেকে অধিক পরিমাণে পানি শোষণ করার কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে মাটির উপরিভাগে বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হচ্ছে।

জেলার গভীর নলক‚পসহ টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। লোকজনদের নতুন করে বেশি টাকা ব্যয় করে নলকুপগুলো স্থাপন করতে হচ্ছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ১০,১৫ বছর আগে নড়াইলে ইউকেলিপটাস, ম্যালেরিয়া, আকাশ মনিসহ বিভিন্ন বিদেশি গাছ আবির্ভাব ঘটে। নড়াইলে প্রথমদিকে মানুষ হাটবাজার থেকে দুই একটি করে চারা কিনে বাড়ির পাশে লাগাতে শুরু করে।

রোপণকৃত গাছগুলো দ্রুত বেড়ে উঠায় লোকজনের মধ্যে ওই গাছ লাগানোর আগ্রহ বাড়তে থাকে। দ্রুত বেড়ে উঠার ফলে পতিত জমির মধ্যে ওই বিদেশি গাছের চারা সারি সারি করে বাগান আকারে লাগিয়ে দেয়। এছাড়া বন বিভাগ তাদের জমির যে স্থানে গজারি বা শালগাছ নেই ওইসব এলাকায় বিদেশি গাছের চারা লাগিয়ে দিয়ে পরিচর্যার জন্য প্লট আকারে লোকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গাছ পরিচর্যার জন্য প্লটের মালিককে গাছ বিক্রির একটি অংশ দিয়ে দেওয়া হয়।

এককালীন মোটা অংকের টাকা পাওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে বিদেশি এ গাছ লাগানোর আগ্রহ বেড়ে যায় ব্যাপক হারে। এভাবে বনবিভাগ ও ব্যক্তিগতভাবে মানুষ পতিত জমিসহ বাড়ির পাশে ফসলি জমিতে ওই গাছের চারা লাগিয়ে দেয়। এভাবে নড়াইল জেলার সব এলাকায় বিদেশি এ গাছের বাগানে ভরে যায়।

যার ফলে আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারাসহ দেশীয় বিভিন্ন জাতের গাছের চারা রোপণের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যায়। এদিকে পূর্বে লাগানো আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, নারিকেলসহ বিভিন্ন দেশীয় গাছগুলো বিদেশি গাছের কারণে রোগাক্রান্ত হতে থাকে। আগের মতো ফল ধরাও কমে যায় দেশীয় গাছগুলোতে।

নড়াইল জেলা উপজেলার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের বেশিরভাগ বাড়ির পাশে জমিতে যেখানে মৌসুমি ফসল যেমন, লাল শাক, পুঁই শাক, ঢেঁড়শ, ডাটা, করলাসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করা হতো এবং আম, জাম, কাঁঠাল গাছ লাগাতো ওই জায়গাতে বিদেশি গাছ বাগান আকারে লাগানো হয়েছে।

বিদেশি গাছের বাগানের আশপাশে ও ভেতর দেশীয় ফলের গাছগুলোতে আর আগের মত ফলের দেখা নেই। গাছগুলোর পাতা ঝড়ে গেছে। দেখতে মনে হয় মরে গেছে। নড়াইলে বিদেশি এগাছগুলো প্রাণিকুল ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

বিশেষ করে ইউক্যালিপটাস গাছের ক্ষতিকর দিকটা বেশি। এর পাতা ও কাণ্ড প্রাণিকুলের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া গাছটি মাটি থেকে বেশি পানি শোষণ করে। এর ফলে পানির স্তুর নিচে চলে যায়। যার প্রভাব মাটির উপরিভাগে দেখা দেয়।।এই সব ক্ষতিকর দিক সমুহ সর্ম্পকে জনগনকে সচেতন করতে সরকারী-বেসরকারী পদক্ষেপ কামনা করে জেলাবাসী।

উজ্জল/নাজিব