নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের তারাশি গ্রামে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গোলাম রহমান সিকদার (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৯মার্চ) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে। নিহত গোলাম সিকদার তারাশি গ্রামের মাজেদ সিকদারের ছেলে।
তারাশি গ্রামের রানা আহম্মেদ জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তারাশী গ্রামের বাসিন্দা জেলা পরিষদ সদস্য বরকত বিশ্বাসের সঙ্গে সরোয়ার মোল্যার বিরোধ চলে আসছে। তৃতীয় ধাপে গত ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বরকত বিশ্বাস নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলুর পক্ষে এবং সরোয়ার মোল্যা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের বিপ্লব বিশ্বাস বিলোর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়।
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নিজাম উদ্দিন খান নিলু জয়লাভ করেন। নিহত গোলাম রহমান সিকদার ছিলেন বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থক।
প্রতিবেশী রজিবুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মাইজপাড়া বাজারে ইমরান সিকদার নামে এক যুবক ভ্যানচালক কালাম মোল্যার ভ্যানে উঠতে চাইলে সে ইমরানকে বলে নৌকার লোককে ভ্যানে নেবো না। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিতর্কের এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে শুক্রবার দুপুরে আবারো দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিপক্ষরা লোহার রড সড়কি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে গোলাম রহমান শিকদারকে।
তবে প্রতিপক্ষের সরোয়ার মোল্যা দাবি করেন, গোলাম রহমান সিকদার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাকে খুন করা হয়নি। নড়াইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস হোসেন পিপিএম জানান, ঘটনার পর তারাশি গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। নড়াইল সদর হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
হুমায়ুন/জেড





