নারী ভোটার কমে গেছে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) এর এমন তথ্যকে ভুল বলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুজন নামে একটি সংস্থার পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়েছে, দেশে আশঙ্কাজনক হারে নারী ভোটার কমেছে অর্থাৎ জেন্ডার গ্যাপ বেড়েছে। বলা হচ্ছে সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী পুরষ-নারী ভোটারের পার্থক্য ১২ শতাংশ। অর্থাৎ নারী ভোটার কমে গেছে ১২ শতাংশ।
কিন্তু সর্বশেষ হালনাগাদের পর ১৫ জুন পর্যন্ত বর্তমান ডাটাবেজে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৫০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আর নারীর ভোটারের সংখ্যা ৪৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। কাজেই সুজনের তথ্য সঠিক নয়- বলছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৮ সালে ভোটার তালিকা প্রণয়নের সময় পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার বেশি হয়েছে। অথচ ঐ সময়ে ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী নারীর চেয়ে পুরুষ সংখ্যা বেশি ছিল; পুরুষ ৫১.৫৪ শতাংশ এবং নারী ৪৮.৪৬ শতাংশ। ২০০৮ সালে অনেক পুরুষ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি। পরবর্তীকালে পুরুষের বিপরীতে যে জেন্ডার গ্যাপ ছিল হালনাগাদ কর্মসূচিতে ক্রমান্বয়ে তা কমে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বেশকিছু জেলায় নারী ভোটার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, সবচেয়ে বড় জেন্ডার গ্যাপ হলো ফেনীতে ৩৫.৩ শতাংশ, লক্ষ্মীপুরে ৩০.৮২ শতাংশ, নোয়াখালীতে ২৬.৪৪ শতাংশ, চাঁদপুরে ২৫.৭২ শতাংশ, কুমিল্লায় ২৩.৪ শতাংশ, কক্সবাজারে ২২.৫৮ শতাংশ এবং ভোলায় ২০.২৩ শতাংশ।
প্রকৃতপক্ষে উল্লিখিত জেলাগুলোর ভোটার সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ফেনীতে পুরুষ ও নারী ভোটারের শতকরা হার যথাক্রমে ৫০.৩৭ শতাংশ ও ৪৯.৬৩ শতাংশ, লক্ষ্মীপুরে ৫০.৩৪ ও ৪৯.৬৬ শতাংশ, নোয়াখালীতে ৫০.৩৭ ও ৪৯.৬৩ শতাংশ, চাঁদপুরে ৫০.৬১ ও ৪৯.৩৯ শতাংশ, কুমিল্লাতে ৪৯.৯৫ ও ৫০.০৪ শতাংশ, কক্সবাজারে ৫১.৪১ ও ৪৮.৫৮ শতাংশ এবং ভোলায় ৫০.৬৩ ও ৪৯.৩৬ শতাংশ। এতে দেখা যায়, সুজনের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যাদি সম্পূর্ণ ভুল।
এআই





