গোপালগঞ্জে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার কোটালীপাড়ার ওই শিক্ষকের কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১০ দিন ধরে স্কুলে যেতে পারছেন না একই স্কুলের কম্পিউটার বিষয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা।
অভিযুক্ত মো. সরোয়ার হোসেন তালুকদার উপজেলার কমলকুড়ি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক। তিনি উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও।
জানা যায়, এ নিয়ে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা গত সোমবার প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে তা বৃহস্পতিবার হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান। অভিযোগের সঙ্গে তাদের দুজনের মোবাইল কথোপকথনের একটি অডিও সিডিও জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ওই শিক্ষিকাকে প্রধান শিক্ষক নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে এবং ফোন করে উত্ত্যক্ত করতেন। সম্প্রতি তিনি ওই শিক্ষিকাকে ধর্ষণ করারও হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা অভিযোগে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন গত দুই বছর ধরে আমাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। স্কুল চলাকালীন কাজের কথা বলে তিনি প্রায়ই আমাকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে এ কু-প্রস্তাব দিতেন। স্কুল ছুটির পরও বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে বিলম্ব করাতে বাধ্য করতেন। এ ছাড়া যখন-তখন মোবাইল ফোনে উত্ত্যক্ত করেন। আমি প্রধান শিক্ষকের কথায় রাজি না হওয়ায় সম্প্রতি তিনি স্কুলের পাঁচজন শিক্ষককে পাহারায় রেখে আমার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে জোর করে আমার শ্লীলতাহানির হুমকি দেওয়ায় ৩ সেপ্টেম্বর থেকে আমি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।’
স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন সরদারকে বিষয়টি জানিয়ে কোনো প্রতিকার পাননি বলেও জানান ওই শিক্ষিকা। উল্টো তিন দিন অনুপস্থিত থাকায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই শিক্ষিকা আরো বলেন, কোনো গত্যন্তর না থাকাতেই আমি অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছি। সরোয়ার হোসেন এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান হাওলাদারের আত্মীয়।
তবে প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাকে হয়রানি করার জন্য তিনি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি আমাকে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করছেন।’ অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে জমা দেওয়া অডিও সিডির কণ্ঠটি তার নিজের নয় বলেও দাবি করেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক।
এরপর শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন সরদার বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের কেলেঙ্কারির রেকর্ড নেই। ওই শিক্ষিকার মোবাইলের রেকর্ড করা কথা আমি শুনেছি। এটা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক সরোয়ারের বলে মনে হয়েছে। তবে, তারা দুজনই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় যে-ই দোষী হবেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা,১৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





