সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনার পুনারাবৃত্তি রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) একমত পোষণ করেছে।
একই সঙ্গে কক্সবাজার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে গুলিবর্ষণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েক মিজানুর রহমান নিহতের ঘটনাকে অনাকাঙ্খিত উল্লেখ করে দুঃখ ও সমাবেদনা প্রকাশ করেছে মিয়ানমার সরকারের পুলিশ বিভাগ।
মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মিয়ানমারের নাইপিদো শহরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক এবং মিয়ানমারের চিফ অব পুলিশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগে সহযোগিতা সংক্রান্ত শীর্ষ পর্যায়ের প্রথম বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মহসীন রেজা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিঞ্জপ্তিতে জানানো হয় শনিবার মিয়ানমার থেকে ফিরেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি টিম।
চিফ অব মিয়ানমার পুলিশ ফোর্স, পুলিশ মেজর জেনারেল জ উইনের আমন্ত্রণে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদের নেতৃত্বে আট সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
জ উইনের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের মায়ানমার প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশগ্রহণ করে। মিয়ানমার প্রতিনিধি দলে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, মাদক ও কাস্টমস্ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অবৈধ মাদক ও মদ, বিশেষ করে ইয়াবা পাচার রোধের ইস্যুও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইয়াবা ফ্যাক্টরির ঠিকানা সম্বলিত একটি তালিকা মিয়ানমার পক্ষকে হস্তাস্তর করা হয়। সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাংলাদেশে মাদক পাচার রোধে বর্ডার গার্ড পুলিশকে (বিজিপি) নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করা হয়। এ অঞ্চলে ভবিষ্যতে মাদক পাচার রোধে করণীয় অনেক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ৬টি বিশেষ এজেন্ডার ওপর দীর্ঘ আলোচনা হয়। আলোচনায় বলা হয়, সীমান্তের অপর প্রান্ত (মিয়ানমার) থেকে নেশাজাতীয় দ্রব্য বিশেষ করে ইয়াবা ও মদ পাচার প্রতিরোধ, উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের কমান্ডারদের মধ্যে সরাসরি (টেলিফোন/মোবাইল ফোনের মাধ্যমে) যোগাযোগ স্থাপন।
এছাড়া সীমান্ত এলাকায় গুলিবিনিময়ের ঘটনা বন্ধ করা, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (সিবিএমপি) চালু করা, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশি জেলেদের সমস্যাগুলো নিরসন এবং পারস্পারিক আস্থা বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
ঢাকা, ১৫ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





